❝ রবীন্দ্রনাথ এখন বাঙলাদেশের মাটি থেকে নির্বাসিত, তবে আকাশটা তাঁর । বাঙলার আকাশের নাম রবীন্দ্রনাথ ❞, ঠিক এভাবেই বলে গিয়েছিলেন এই দেশের অন্যতম সেরা একজন লেখক হুমায়ুন আজাদ । যে দেশের আকাশটা তার লেখক বলেই গিয়েছেন তার নাম নিয়ে আলোড়ন হবেনা এই দেশে তা কী হতে পারে ?
“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি ” বইটির প্রচ্ছদে প্রথম নাম দেখেও সকল পাঠকের ভিতরে যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিলো তার মধ্যে আলোচিত দুইটি প্রশ্ন হলো,
রবীন্দ্রনাথ কেন খেতে আসেন নি?
এবং
রবীন্দ্রনাথ কোথায় খেতে আসেন নি?
রবীন্দ্রনাথ যে বাংলার আকাশ হয়েই আছেন তা এই বইয়ের নামকরণ এবং প্রচ্ছদ পরবর্তী পাঠকের আগ্রহের তুমুল উন্মাদনা প্রমাণ করে দিয়েছে বারবার ।
এবার মূল প্রসঙ্গে চলে আসি, আমি রিভিউ লিখতে যাচ্ছি রবীন্দ্রনাথ সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের যার নাম,“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি”,
আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কোথায় আসেন নি?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমার লেখাটা পড়ে আমার সাথেই থাকতে হবে,কখনো রহস্যের জট পাকাতে হবে এবং কখনো রহস্যের জট ছাড়াতে হবে ।
চরিত্র পরিচিতি
(১) মুশকান জুবেরি
(২) নুরে ছফা
(৩) আতর আলী
(৪) সুস্মিতা সমাদ্দার
(৫) ডিবির সাবেক অফিসার কে এস খান
(৬) প্রধানমন্ত্রীর পি এস আশেক মাহমুদ
(৭) মাস্টার রমাকান্ত কামার
(৮) ডাক্তার আসকার ইবনে সায়িদ
এবং অপ্রধান চরিত্রে আরও অনেকে ।
কাহিনী সংক্ষেপ
“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি”, বইটি যেখানে শেষ হয়েছিল এই বইটি ঠিক তারপর থেকেই রহস্যের বার্তা নিয়ে যাত্রার সূচনা করেছে । মুসকান জুবেরি নুরে ছফাকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে, বুদ্ধির পুলসিরাতে ভর করে জমিদার বাড়িতে আগুন দিয়ে পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই পালিয়ে গিয়েছিলেন,এই গল্প সবারই জানা যারা এই সিরিজের প্রথম পর্ব পড়েছে ।
সুন্দরপুর গ্রামের সেই মুসকান ও ছফার ধরা বা ছোঁয়ার অনতিক্রান্ত লুকোচুরি খেলা নিয়েই লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের বই “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো আসেন নি ”। ইনভেস্টিগেটর নুরে ছফা ডিবির সবচেয়ে মেধাবী গোয়েন্দাদের একজন হওয়া সত্ত্বেও মুশকান জুবেরিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এই রহস্যের সমাধান করতে পারেননি ।
জীবনে কোন কেস যে অসমাপ্ত রাখেনি, সেই নুরে ছফাই মুসকান জুবেরির ছলনার কাছে যেন পরাজিত এক মূর্তি ।
তিন বছরের সূর্যের রোদ হারিয়ে গেছে মুসকান জুবেরি কোথায় কেউ জানেনা ! প্রধানমন্ত্রীর পি এস আশেক মাহমুদের বোনের ছেলের অন্তর্ধান রহস্যের জটিলতার চক্রবাকে আশেক মাহমুদের বোন চলে যায় মৃত্যুশয্যায়, মুশকান জুবেরির পরিচ্ছেদের সমাপ্তি টানতেই এবার প্রলুব্ধ করেছেন আশেক মাহমুদ নিজেই । সুন্দরপুর থেকে তার ভাগ্নে হাসিব নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার সময়ে তার আমেরিকায় থাকা বোনের প্রতিবেশী ছিলেন মুশকান জুবেরি । ভাগ্নের হত্যার প্রতিশোধ নাকি মুসকান জুবেরির এই নারকীয় খেলা বন্ধের আল্টিমেটাম?
নুরে ছফা কেসটি আবারও তার প্রসিদ্ধ চোখে, নতুন মোড়কে সূচনা করেন আশেক মাহমুদের বোনের মৃত্যুর পূর্বে তার আত্মিক প্রশান্তির দ্বার উন্মোচনে, নতুন করে শুরু হয় এই রহস্যজাল ভেদ করার এক অদম্য অভিযান ।
এবার কী ধরা পড়বে মুসকান নাকি এবারও পাখি খাঁচা ছেড়ে উঁড়ে যাবে?
ভুল শোধরাতে শিকড়েই ফিরে যেতে হয় তাই তিন বছর পরেও নুরে ছফা সুন্দরপুর থেকেই মুশকান জুবেরি রহস্য পুনরুদ্ধারে নামেন । এটা যেন কে এস খানের এই বাণীটির সঠিক দৃশ্যায়ন তিনি বলেছিলেন, ” যে মাটিতে আপনি আছাড় খেয়েছেন সে মাটিতেই আপনাকে উঠতে হবে “।
সুন্দরপুরে গিয়ে তিনি দেখেন রেস্টুরেন্টটা সেখানে আর নেই, সেটা এখন রবীন্দ্রনাথের নামে লাইব্রেরী রুপে পরিচিতি পাচ্ছে । তিনি আরও জানতে পারেন শিক্ষক রমাকান্ত কামার এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন যাকে মুসকান জুবেরি তার সম্পত্তি দিয়ে গিয়েছিলেন ।
আতর আলী বিবিসি খ্যাত হেল্পিং হ্যান্ড নুরে ছফাকে সাহায্য করতে এবারো এগিয়ে আসেন । আতর আলীও নতুন রুপে এই পর্বে কিছু দৃশ্যে চলে আসেন নুরে ছফার সাথে রহস্যের জট ছাড়ানোর অংশীদার হিসেবে । লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কারণ দিয়েই তারা প্রথম সন্দেহের তীর ছুঁড়লেন এই বলে যে, মুশকানের সাথে তাদের নির্ঘাত এখনো যোগাযোগ আছে, এতো সম্পত্তি যে মাস্টারকে দিয়ে গেছেন সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক ।
নুরে ছফা মাস্টারকে জেরা করে সেই সূত্র ধরে একটা চিরকুট পায়,সেই চিরকুটের মাধ্যমে ট্রাস্টের উকিল ময়িজ উদ্দিন কে পায় , তার কাছ থেকে জানতে পারে এই ট্রাস্টের সাথে যুক্ত আছেন সেই ডাক্তার,আসকার ইবনে সায়িদ । ডাক্তারের সম্পর্কের সুতো খুঁজে পেয়ে ডাক্তারের সান্নিধ্যে তিনি জানতে পারেন মুশকান জুবেরির সম্পর্কে নুরে ছফা যা জানতেন সবই মিথ্যা এবং বানোয়াট ।
সুন্দরপুর কিংবা ঢাকায় নুরে ছফা এবার ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকেননি, তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রহস্যের ডাল পালা ভেদ করে সেই রহস্যময়ী নারীকে ধরার উন্মাদনায়, বিচ্ছিন্ন ঘটনার সূত্র ধরে তিনি পাড়ি জমান কলকাতাতে,সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন মুসকান জাত শিকারি, তিনি কলকাতাকেও ছাড় দেননি, তার শিকারি হাত সেখানেও থাবা বসিয়েছে আপন মনে ।
সুশোভন নামের একজন পুলিশ অফিসার
কলকাতায় নুরে ছফাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন । নুরে ছফা তার পাওয়া ক্লু গুলোকে সঙ্গী করে এই রহস্যের একটা একটা করে তার জুঁড়ে দেয়ার চেষ্টায় বিভোর কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর গোলকধাঁধা থেকে তিনি রেহাই পাচ্ছেন না, একের পর এক বিচ্ছিন্ন তথ্য এসে তাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিচ্ছে ।
নিখোঁজ ডাক্তার দয়াল প্রসাদ মল্লিকের সাথে মুশকান জুবেরির অদ্ভুত যোগাযোগের সেতু খুঁজে পান নুরে ছফা । কলকাতায় থাকা অবস্থায় নুরে ছফা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেলেও এই যাত্রার পর্দা নামে দ্রুতই, তিনি আবার ফিরে আসেন বাংলাদেশে ।
এপার বাংলায় ফেরার পরে সুস্মিতা সমাদ্দার চরিত্রটি গল্পে নতুন মোড় তৈরি করে । মুশকান জুবেরি প্লাস্টিক সার্জারি করে সুস্মিতা সমাদ্দার হিসেবে নতুন পরিচয়ে পৃথিবীর অক্সিজেন নিঃশ্বাস হিসেবে টেনে বেঁচে আছেন এই সন্দেহের সূচনা থেকেই নুরে ছফা গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসেন সেই নারীকে ।
সেই নারীই কী মুশকান?
নাকি এটি নুরে ছফার বিভ্রম?
নুরে ছফা এখন ত্রিভুজ সমস্যা নিয়ে পড়েছেন, যেখানে তিনি জানেন না এটা সমকোণী, সমদ্বিবাহু না সমবাহু ত্রিভুজ !
মুশকান জুবেরি, সুস্মিতা সমাদ্দার এবং ডাক্তার আসকার এই তিনজনের বিপরীতে তিনি কী পেরে উঠবেন?
রহস্যের কালো মেঘ ভেদ করে কী একটা প্রস্ফুটিত সূর্য দেখবেন এই প্রশ্নকে সামনে রেখে তিনি আগাতে লাগলেন ।
উপন্যাসে প্রধানমন্ত্রীর পিএসের গান ম্যান আসলাম চরিত্রটি কিছু জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেছে । উপন্যাসের প্যাঁচগুলো যত রকম প্রশ্ন বাণে জর্জরিত করেছিলো প্রথমের দিকে শেষের দিকে দ্রুতই যেন জটগুলো খুলতে থাকে ।
নুরে ছফা আর মুশকান জুবেরি কীভাবে
শেষটা জমিয়ে তোলে এই লুকোচুরি খেলায় কে জিতবে?
মুশকান নাকি ছফা?
সেই উত্তেজনার পারদ অনুভব করার জন্য এক নিঃশ্বাসে ধৈর্য্য ধরে পড়ে ফেলতে হবে এই থ্রিলার বইটি ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
(ক) পজেটিভ দিক
প্রথম পয়েন্ট :
উপন্যাসের সূচনাই হয় কয়েক বছর আগের একটি নিরুদ্দেশ হওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে । সেই ক্ষুদ্র সূচনা থেকেই সন্তর্পণে গল্পের ডাল পালা বাড়িয়ে চমৎকার একটা দৃশ্যপট সাজিয়ে তুলেছেন লেখক । সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই কাহিনী প্রবাহ এগিয়েছে নিজের অনন্ত গতিতে ।
দ্বিতীয় পয়েন্ট :
মুশকান জুবেরি চরিত্রটি যখনই এসেছে
বইয়ে তখনই পাঠক থ্রিল বা টুইস্টের আবহ অনুভব করেছে, রহস্যময়ী সেই নারীর বুদ্ধি ও নৈপুণ্যতায় সেই রহস্য বারবার জমে উঠেছে । এই বইয়ের সবচেয়ে বড় রহস্যই হলো মুশকান জুবেরি, সেই-ই উপন্যাসটা পড়ার আগ্রহ পাঠকের মনে ধরিয়ে রেখেছে শেষ পর্যন্ত ।
তৃতীয় পয়েন্ট :
প্রধান বা অপ্রধান দুই ধরণের চরিত্রই সব উপন্যাসে থাকে, এই বইয়েও লেখক প্রধান চরিত্রগুলোকে সময় নিয়ে লিখেছেন, বাস্তবতার নিরিখের ছোঁয়া দিতে কখনো লেখক ইতিহাসের আশ্রয় নিয়েছেন, যা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত বলেই মনে হয়েছে । চরিত্রের বিভিন্ন ছায়া তিনি বেশ সুন্দর করে রঙতুলিতে যেন এঁকেছেন,প্রতিটি চরিত্রেরই নিজস্ব একটা বৈচিত্র্য ছিলো, ছিলো একটা সতন্ত্র মনোভাবও ।
চতুর্থ পয়েন্ট :
ক্ষমতা ও পদের যে দ্বন্দ্ব এবং কর্মচারী হয়ে যত বড় পদেই কেউ আসীন থাকুক না কেন তাকেও যে উপর মহলের কারও হ্যাঁ বা না শোনার জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হয় কিংবা কখনো সীমাবদ্ধ হয়ে প্রাচীরের ভিতরেই আবদ্ধ থাকতে হয় ,তার একটা বাস্তব দিক লেখক তার লেখায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন ।
পঞ্চম পয়েন্ট :
বইয়ের যে অংশে রহস্যের জট ছাড়ানো শুরু করেন লেখক তারপর থেকে পাঠক খুবই উত্তেজনা অনুভব করে এবং শিহরণ নিয়ে বইটা পড়ে শেষ করে তাই পাঠের শেষ অনুভূতিটা টানটান থ্রিলারের স্বাদ দেয় ।
(খ) নেগেটিভ দিক
প্রথম পয়েন্ট :
এক অপ্রতিরোধ্য মুশকান জুবেরি !
মুশকান জুবেরি ধরা পড়ে গেলেই উপন্যাসটা শেষ হয়ে যাবে এই ভয় কী পাঠকের মতো লেখকেরও ছিলো?
নুরে ছফার মতো এতো বিচক্ষণ মানুষটিও বারবার মুশকানের কাছে বুদ্ধিতে হেরে যাচ্ছে এবং বারবারই সে পুলিশদের বোকা বানিয়ে কীভাবে যেন পালিয়ে যাচ্ছে, এটা যেন নিয়তিই হয়ে গেছে
যে ছফা এদিক সেদিক দৌড় ঝাঁপ করবে ঠিকই কিন্তু মুশকান জুবেরিকে ধরতে পারবেনা । রবীন্দ্রনাথ সিরিজের তৃতীয় পর্বে আবার মুশকান জুবেরিকে ফিরিয়ে আনতেই কী তাকে আবার পালাতে সাহায্য করলেন লেখক?
এই প্রশ্ন নুরে ছফা করলে এর কী উত্তর দাঁড়াবে আপনারাই বিচার করে দেখবেন ।
দ্বিতীয় পয়েন্ট :
মুশকান জুবেরি তার সকল সম্পত্তি
মাষ্টার রমাকান্ত কামারকে দিয়ে গিয়েছিলেন, যিনি রবীন্দ্রনাথ নামের রেস্টুরেন্ট সরিয়ে লাইব্রেরী বানিয়ে ফেললেন! খাবার থেকে বইয়ে চলে এলো প্রেক্ষাপট, কিন্তু সেই লাইব্রেরীতে তেমন রহস্যের কিছু ঘটেনি , অন্যদিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ভেবেছিলাম রমাকান্ত কামারকে কিন্তু পরবর্তীতে তার আসলে তেমন কোনো বিশেষ ভূমিকা পাওয়া যায়নি পুরো উপন্যাসে ।
তৃতীয় পয়েন্ট :
উপন্যাসের প্রথম একশো থেকে দেড়শ
পৃষ্ঠার ভিতরে গল্পের মেরুদন্ড দাঁড় করাতে বেশ সময় নিয়েছেন লেখক । আবার হঠাৎ করেই দ্রুত গল্প টেনে নিয়ে গেছেন কখনো, উদাহরণস্বরুপ,
ছফা কলকাতায় গিয়ে গত তিন বছরে নিরুদ্দেশ হওয়া মানুষদের তালিকা থেকে ছফা দুজন মানুষকে খুঁজে বের করেন এবং কাকতালীয়ভাবে মুশকান জুবেরির সাথে সেই দুজনের সম্পর্কের সুতো বেরিয়ে আসে । ছফার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রয়োগটি সেই অর্থে বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি ।
চতুর্থ পয়েন্ট :
এই সিরিজের প্রথম পর্বে মুশকান জুবেরির চরিত্রটি অত্যন্ত রহস্যের আড়ালে ফুটিয়ে তোলায় সব আকর্ষণ এবার সেই নারীর দিকেই ছিলো পাঠকের , কিন্তু কাহিনীর অতি দ্রুততায় চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত প্রথম পর্বের মতো আলো ছড়াতে পারেনি । অন্যদিকে, পি এসের বোনের সাথে মুশকান জুবেরির পূর্ব পরিচয় ছিলো এই বিষয়টিও অদ্ভুত কাকতালীয় লেগেছে ।
পঞ্চম পয়েন্ট :
বইয়ের প্রচ্ছদে দুজন নারীর ছবি দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছিলো নতুন একটা নারী চরিত্রের আগমন হবে গল্পে । সুস্মিতা সমাদ্দারের চরিত্রটি সেই অর্থে খুবই দুর্বল,লেখক এই চরিত্রটিকে আরও একটু স্ট্রং করলে হয়তো গল্পটি আরও নতুনত্ব পেতো ।
বইটি কেন আপনি পড়বেন?
মানুষ রহস্য প্রিয় প্রাণী, রহস্য তার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে । রেস্টুরেন্ট নিয়ে এমন থ্রিলার উপন্যাস বাংলা ভাষায় আগে কখনো লেখা হয়নি ।
মানুষের শরীরের বিশেষ অঙ্গ খেয়ে ফেলা এক নারী নিজের বয়স নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে তার এই সাম্রাজ্য জারি রেখে যায় তা জানতে হলে এই লেখকের বইটি অবশ্যই আপনাকে পড়তে হবে ।
সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ও বাঁধাই
প্রচ্ছদ বা বাঁধাই নিয়ে আমার কোন দ্বিধাই নেই, প্রচ্ছদ বেশ ভালো এবং বাঁধাইও ছিলো অনবদ্য ।
কিন্তু সম্পাদনার কাজটি ঠিকমতো হয়নি, বানান ভুল থাকলে সেটাই আগে চোখে ধরা পরে যায় আমার , সেই হিসেবে বইয়ে কিছু বানান ভুল ছিলো ।
ব্যক্তিগত রেটিং
৪.৪/৫
লেখক পরিচিতি
দুই বাংলায় বর্তমান সময়ে থ্রিলার কিং খ্যাত লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন । তার জন্ম ঢাকায় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বছর অধ্যয়নের পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তার সৃজনশীল সত্ত্বা বিকাশের উপযোগী আরেকটি বিষয় তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন । মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বাংলার পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন ভিনদেশী বিখ্যাত থ্রিলারগুলো অনুবাদ করার মধ্য দিয়ে । ২৬টিরও বেশি বইয়ের এই অনুবাদক পরবর্তীতে মনোনিবেশ করেন মৌলিক থ্রিলার রচনায় । অনুবাদক এবং থ্রিলার লেখক ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় হলো, তিনি বাংলাদেশের বাতিঘর প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ।
বই ফটোগ্রাফি
রুদ্র রহমান [ছবিটা একটি শ্মশানে তুলেছি]
বইয়ের নাম: রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি
লেখক: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
ধরণ: থ্রিলার উপন্যাস
প্রকাশন: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ২০১৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০