প্রারম্ভিকা
পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজনের গহীন অরণ্যের রহস্যে মেতে থাকা এই গ্রহের প্রাণীরা এখনো পুরোপুরি রহস্য ভেদ করে উঠতে পারেনি সেই বিশালতার, যে বিশালতার সূচনাই আছে, সমাপ্তি রেখা নেই । আমাজন-ই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট,জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আমাজনের বিশাল আকুলতা , বৈচিত্র্যময় প্রাণীজগৎ ও উদ্ভিদজগৎ এবং আদিবাসী জীবনের এক মেলবন্ধনের সরলরেখা টেনেছেন লেখক জেমস রোলিন্স তার এই বইতে । এই বইটি আমাজন জঙ্গলের জটিল রহস্য আর মিথোলজি নিয়ে অনেক তথ্য আপনাকে দিবে যা ফুটে উঠেছে বইয়ের পাতায় লেখকের রিসার্চ ওয়ার্কের নৈপুণ্যতায় ।
অভিযাত্রীরা যে উদ্দেশ্যে আমাজনে পা রাখছে তা কী শেষ পর্যন্ত তারা পূর্ণ করে জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছিলো সভ্য সমাজে ?
এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে আমার এই লেখাটি আপনাদের পড়তে হবে শেষ পর্যন্ত ।
চরিত্র পরিচিতি
(১) জেরাল্ড ক্লার্ক
(২) নাথান র্যান্ড
(৩) কেলি ওব্রেইন
(৪) ফ্রান্সিস কে. ওব্রেইন
(৫) ম্যানুয়েল অ্যাজভেদো
(৬) প্রফেসর রেশ কাউয়ি
(৭) রিচার্ড জেন
(৮) আনা ফঙ
(৯) অলিন পাস্তারনায়েক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডিরেক্টরেট, সিআই ৫
মিলিটারি সাপোর্ট হিসেবে আর্মি রেঞ্জারের একটি স্বশস্ত্র দল এবং অপ্রধান চরিত্রে আরও অনেকে ।
কাহিনী সংক্ষেপ
রহস্য যে জঙ্গলের প্রতিটি পৃষ্ঠায় সায়ানাইডের মতো মিশে থাকে সেই বিপজ্জনক গহীন জঙ্গলে এক সমুদ্র সাহস নিয়ে CIA এর একটি অভিযাত্রী দল মিশন নিয়ে আমাজনের গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন চার বছর পূর্বে । গহীন সেই অরণ্যে তাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছিল প্রতিকূলতা, সেই স্রোতে তারা স্মৃতির গহ্বরে হারিয়ে যেতে থাকে ।
নিঁখোজ একটা অভিযাত্রী দলের সাথে কী এমন হয়েছিল?
এই প্রশ্ন বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের । কিন্তু এর ঠিক চার বছর পরে সেই মিশনে পাঠানো CIA এর স্পেশাল ফোর্সের সৈনিক এজেন্ট জেরাল্ড ক্লার্ক অস্বাভাবিক দৈহিক পরিবর্তন নিয়ে মূমুর্ষূ অবস্থায় ফিরে আসে আমাজনের একটি মিশনারি গ্রামে । না ফেরা পাখি হঠাৎ ফিরে এসে আবার মৃত্যুর কালো রেখায় প্রাণ বলি দিয়ে বেশ ব্যথিত ও চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো ওয়াশিংটনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের । শুধু এখানেই এই গল্পের সমাপ্তি নয়, এই এজেন্ট যখন আমাজনে গিয়েছিলো তখন তার হাত ছিলো মাত্র একটি, কিন্তু মৃতদেহ পর্যবেক্ষণের সময় দেখা গেলো তার হাত দুইটি ।
আরেকটি হাত কীভাবে এলো?
এই অমোঘ প্রশ্ন বাণ জর্জরিত করছিল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্রেনের টিস্যুকে ।
আমাজনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নাথান র্যান্ডের নেতৃত্বে রেঞ্জার্সদের একটি দল আবার পাঠানো হলো এই ঘটনাটির রহস্যের শেষটা সকলের সামনে আনতে । মায়াবী চোখের অধিকারীর বয়স বেশি নয়, লম্বা আর কোঁকড়া,বাদামি রঙের চুলে আবৃত নাথান র্যান্ড পেশায় ব্রাজিলের একজন বোটানিস্ট। চার বছর আগে,যে দলটি আমাজনের গহীন অরণ্যে হারিয়ে গিয়েছিলো তার টিম লিডার ছিলেন তারই বাবা । অপারেশন আমাজনিয়ায় সিভিলিয়ান ইউনিটে ৫ জন, স্থানীয় রিক্রুটে ৩ জন এবং পর্যাপ্ত মিলিটারি সাপোর্ট নিয়ে তৈরি করা হলো অভিযানের টিমটি । প্রায় একই সময়ে একটি অজানা মরণব্যাধি ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় ।
সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ছে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ।
কোন প্রতিকার না পেয়ে সারা দেশে ঘোষণা করা হয়েছে রেড এলার্ট ।
অভিযাত্রী দল কী পারবে সেই ভাইরাস এবং আমাজনের প্রতিকূলতাকে নাগপাশ করে রহস্যের মুকুট ছিনিয়ে আনতে ?
এই এতো বিক্ষিপ্ত প্রশ্নকে পায়ে পিষে অভিযাত্রী দলটি আমাজনে পৌঁছায় । এতো এতো প্রতিকূলতার ভিতরে তাদের পিছু নেয় একের পর এক শত্রুপক্ষ ।
এখানে উল্লেখ্য যে, আমাজনে প্রাচীনকাল থেকেই অভিযাত্রীরা যাত্রা করতো মূলত গুপ্তধনের সন্ধানে । অভিযাত্রীরা বিশ্বাস করতো, গহীন এই জঙ্গলের ভিতরেই কোথাও লুকিয়ে আছে “এলডোরাডো”
(Eldorado) নামক সোনা দিয়ে তৈরি এক গুপ্ত শহর । এই ধারণাটি তারা পেয়েছিলো গ্রীক পৌরাণিক গল্প থেকে যেখানে বলা হয়েছে যে “এলডোরাডো” নামক সোনায় মোড়ানো শহরটি পাহারা দেয় এক শ্রেণির বিশেষ নারী যোদ্ধারা ।
শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য কী গুপ্তধন হাতিয়ে নেয়া? নাকি তারা আমাজনের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব জারি রেখে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের সাম্রাজ্য ।
এদিকে অভিযাত্রী দলের সদস্যরা আমাজনের গহীনে এগিয়ে অদ্ভুত আকৃতির পিরানহার আক্রমণে প্রাণ যায় সদস্যের । এরই ধারাবাহিকতায় অভিযাত্রী দল পঙ্গপাল এবং বৃহৎ কুমিরের মুখোমুখি হয়, তাদের বেঁচে থাকা কঠিন সমীকরণে রুপ নেয় প্রতিটি দিনের আবর্তেই ।
এক সময় তারা জানতে পারে তাদের গোপণ আক্রমণের প্রস্তুতিতে আছে কোন এক গোত্র ।
তারা কী ব্যান আলির চিহ্ন রেখে যাচ্ছে?
আমাজনের ভিতরে সেই রহস্যময় ভুতুড়ে গোত্র ব্যান আলির অস্তিত্ব কি সত্যিই আছে?
এই ব্যান আলির উদ্দেশ্য কী? তারাই বা কারা?
অভিযাত্রী দল ষড়ভূজ সমস্যা নিয়ে জর্জরিত, একে তো আমাজনের ভয়ঙ্কর প্রাণীর আক্রমণ অন্যদিকে শত্রুদলের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছিলো ।
মস্তিস্ক শত্রু ?
ব্যান আলি ?
ভয়ঙ্কর প্রাণীর আক্রমণ ?
গুপ্তচর শত্রু ?
অচেনা ভাইরাসের আক্রমণ ?
না কি প্রতিশোধের কালো রেখায় প্রাণ যাবে সকলের ?
এদিকে অদেখা সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কেলি ওব্রেইন এর একমাত্র মেয়ে, এতো মৃত্যুর মিছিলে কী তারা খুঁজে পাবে এই ভাইরাস থেকে বাঁচার কোন প্রতিষেধক?
বইয়ের শেষাংশে, কেলির গর্ভে যে সন্তান এলো তার বাবা কে?
আপনাদের জানতে আগ্রহ হচ্ছেনা,
এতো এতো প্রশ্নের সমাপ্তি রেখা কী টানতে পারবে নাথান র্যান্ডের অভিযাত্রী সেই দল?
তারা কী বের হতে পারবে জঙ্গলের এই জটিল ধাঁধার ব্রাকেট ভেঙ্গে? না কি তারাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তাদের পূর্বসূরী অভিযাত্রীদের মতো ।
তারা কী উদঘাটন করতে পারবে এই কালো মেঘের পিছনে লুকিয়ে থাকা জটিল রহস্যের গোপন সূর্যকে ?
সেই উত্তেজনার পারদ পুরোটা অনুভব করার জন্য এক নিঃশ্বাসে ধৈর্য্য ধরে পড়ে ফেলতে হবে এই থ্রিলার বইটি।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
(ক) পজেটিভ দিক
প্রথম পয়েন্ট :
সবুজ প্রকৃতি হলো চোখের শান্তি, এই বইয়ে লেখক আমাজনের ভিতরের যে রুপ, বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয় । বই পড়ার সময় পাঠক কল্পনায় সেই দুর্গম পথের যাত্রায় অবচেতন মনে কখন যে যুক্ত হয়ে যাবেন তা হয়তো বই পড়তে পড়তে ভুলেই যাবেন পাঠক । খুব কম বইয়ের সাথেই এই যোগসূত্রটা স্থাপন করা যায়, যা লেখক করে দেখিয়েছেন তার লেখার জাদুকরী হাতে । জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আমাজনের বিশাল আকুলতা , বৈচিত্র্যময় প্রাণীজগৎ ও উদ্ভিদজগৎ এর এই মেলবন্ধনের সমন্বয় ছিলো যথোপযুক্ত ।
দ্বিতীয় পয়েন্ট :
জঙ্গলের গহীন বালুচরে পথ চিনে গন্তব্য পৌঁছানোই যেখানে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে প্রতি পদে পদে থ্রিল, ভয়, আতঙ্ক এবং বেঁচে ফিরে আসার এই ভ্রমণে পাঠক হিসেবে আমি ছিলাম উন্মাদনার তুঙ্গে । পাঠক হিসেবে আমাকে টুইস্ট আমার খুবই পছন্দের মেন্যু, আর এই বইটির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে টুইস্ট ও টার্নিং পয়েন্ট আছে। একজন থ্রিলার প্রেমী পাঠক হিসেবে তাই বইটি আমাকে চুম্বকের মতো টেনে ধরে রাখতে পেরেছে, যার ক্রেডিট পুরোটাই এই টান টান থ্রিলার বইটির লেখকের ।
তৃতীয় পয়েন্ট :
এটি লেখকের অনেক গবেষণালব্ধ একটি সৃষ্টি, বইটির জন্য লেখকের রিসার্চ ওয়ার্ক অনবদ্য । চমকে যাওয়ার মতো অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেই লেখক এই বইটির এই রুপ দিয়েছেন । বইয়ে আছে প্রাচীন মিথোলজির দুর্দান্ত প্রয়োগ , যা বইয়ের প্লটকে এনে দিয়েছে একটি সতন্ত্র স্বত্বা । পুরো পৃথিবী স্থবির করে দেয়া প্রাণঘাতী ‘ করোনা ’ ভাইরাসের তান্ডব দেখা এই পৃথিবী এই ভাইরাসের সাথে বারবার বইয়ের সেই উল্লেখিত ভাইরাসের মিল খোঁজার চেষ্টায় রত হয়ে যাবে । লেখক কী রীতিমত একটা ভবিষ্যত বাণীই করে গিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে এমন ভাইরাস পৃথিবীতে আসবে? সেই দিক বিবেচনা করলে লেখককে ক্ষণজন্মা গবেষক বলাও ভুল হবেনা ।
চতুর্থ পয়েন্ট :
প্রধান বা অপ্রধান দুই ধরণের চরিত্রই সব উপন্যাসে থাকে, এই বইয়েও লেখক প্রধান চরিত্রগুলোকে সময় নিয়ে লিখেছেন, প্রধান চরিত্রগুলো যথাযোগ্য মেলে ধরার সময় পেয়েছে উপন্যাসে । চরিত্রের ভিতরে দুঃসাহসী মনোভাব এবং অদম্য এক শক্তির স্ফুরণ লেখক বেশ সুন্দর করে মাধুরী মিশিয়ে এঁকেছেন,প্রতিটি চরিত্রেরই সতন্ত্র একটা বৈচিত্র্য ছিলো, ছিলো একটা নিজস্ব মনোভাবও । কোন একটা চরিত্রের যন্ত্রণা পাঠককে অনুভব করাতে পারা লেখকের বড় সাফল্য ।
পঞ্চম পয়েন্ট :
রহস্যের পর্দা ভেদ করার আগ্রহ যেন প্রতিটি মানবদেহের জিনেই কম বেশি আছে । কীভাবে একজন এজেন্টের একটি হাত থেকে দুটি হাত হয়ে গেলো? কীভাবে অচেনা এক ভাইরাস এতো মানুষের প্রাণ নিয়ে মৃত্যুক্ষুধায় মেতেছিলো?
জঙ্গলে ভিতরে এতো এতো বিরোধী পক্ষের সাথে কী শেষ পর্যন্ত পেরে উঠবে অভিযাত্রী দল?
এই রহস্য গুলোর মেঘে বসবাস করতে করতে পাঠক নিজেকেও অভিযাত্রী দলের একজন ভেবে সেই প্রতিকূলতার মোকাবিলা করবে ।
এই যে আকর্ষণ এই যাত্রার প্রতি এই আকর্ষণের মোহে পাঠক জড়িয়ে যাবে ।
উপন্যাসের শেষাংশের প্রতিটি পৃষ্ঠা উত্তেজনার পাশাপাশি অজানা তথ্য ও টুইস্ট দিয়ে চমকপ্রদ করে যাবে পাঠককে । পাঠকের হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে, উন্মাদনার চরম শিখরে থাকবে পাঠকের মন, এবং দুর্দান্ত এক সমাপ্তিতে শেষ করবে এই উপন্যাস ।
(খ) নেগেটিভ দিক
প্রথম পয়েন্ট :
অজস্র চরিত্রের ছড়াছড়ি হয়েছে এই উপন্যাসে ! এতো এতো চরিত্রকে মাথায় রেখে পূর্বের পৃষ্ঠার সাথে সম্পর্ক গড়ে পড়তে পাঠককে বেশ কৌশলী হতে হবে । অনেক অপ্রধান চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে উপন্যাসে সেই চরিত্রগুলোর সাথে সম্পর্ক সেভাবে গড়ে উঠবে না পাঠকের মনে ।
দ্বিতীয় পয়েন্ট :
ইমোশনাল এ্যাটাচমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, চরিত্রগুলোর সাথে ইমোশনালি এ্যাটাচ না হতে পারলে ইমোশন যেভাবে তুলে ধরা হয় বইয়ে তা পাঠকের হৃদয়ে দাগ কাটতে পারেনা ।
মা ও মেয়ের মধ্যে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক, কেলি ওব্রেইন ও তার মেয়ের মধ্যে সম্পর্কের টান যেমন অনুভূত হয়েছে, তেমনি ভাবে অন্য সম্পর্কগুলো ইমোশনালি এটাচ করতে পারেনি । এই এটাচমেন্টটা আরেকটু গভীর হলে হয়তো আরও উপভোগ্য হতে পারতো ।
তৃতীয় পয়েন্ট :
উপন্যাসের শুরুতে প্রধান অ্যান্টাগোনিস্ট ( প্রতিপক্ষ ) কে যেমন আগ্রাসীভাবে দেখানো হয়েছে, পাঠক বইয়ের শেষে তার ভিতরে আরও আগ্রাসনের আশা করে থাকলে একটু হতাশ হতেও পারে ।
চতুর্থ পয়েন্ট :
ব্যতিক্রম কিছু সব সময়ই পাঠকের চোখকে আকৃষ্ট করে, আর গতানুগতিক কিছু ঘটলে চোখের সামনে সেটা কখনো কখনো বিরক্তির রেখাও টেনে ধরে ।
উপন্যাসের কিছু ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য একটু কমন প্রসেসে দেখানো হয়েছে ।
মাঝে মাঝে মনে হতে পারে সিনেমাটিক ওয়েতে শেষ করে, দুইয়ে দুইয়ে চার শেষে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে ।
বইটি কেন আপনি পড়বেন?
জঙ্গল যার চোখে জ্যামিতিক হারে আকর্ষণের জাল বিস্তার করেনা তার চোখেই সমস্যা—বাণীটা হয়তো বিখ্যাত কারও নয় এই ক্ষুদ্র আমারই লেখা । এই বই পড়তে পড়তে একসময় জঙ্গলের প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন আপনি এতটুকু বলতে পারি । জীবনে প্রচুর জঙ্গল নিয়ে মুভি ও ডকুমেন্টারি দেখেছি, জঙ্গল এর দৃশ্য দেখা যেন চোখের শান্তি হয়ে গেছে আমার । এই বই পড়েও পাঠক কল্পনায় আমাজনের সেই গহীন অরণ্যে ডুব দিয়ে বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠাতে উত্তেজনার আবহ, অজানা তথ্য ও টুইস্টের জন্য প্রহর গুণে যাবে । আমাজনের শান্ত এবং হিংস্র দুই ধরণের সৌন্দর্যই বইয়ের পাতায় পাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক । বইটির শুরু থেকে শেষ অবধি রহস্যের চাদরে ঘেরা,তাই যারা টুইস্ট পেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি মাস্ট রীড একটি বই ।
সম্পাদনা, প্রচ্ছদ, বাঁধাই ও অনুবাদ
সম্পাদনা বা বাঁধাই নিয়ে আমার কোন দ্বিধাই নেই এই বইয়ে , সম্পাদনা বেশ ভালো এবং বাঁধাইও ছিলো মানসম্মত । তবে যে প্রচ্ছদটি আছে এখনো বইয়ে সেটা খারাপ বলবো না আরও ভালো এবং জলজ্যান্ত একটা আপডেট ভার্সনের প্রচ্ছদ আমরা আশা করতেই পারি ডিলান স্যারের থেকে । যেহেতু ইংরেজি ভার্সনের বইটা আমি আগেই পড়েছিলাম তাই একটা শঙ্কা ছিলো, অনুবাদ কেমন হয়! ভালো না মন্দ?
রাকিব হাসানের অনুবাদ পড়ে কখনো মনে হয়নি যে অনুবাদ করা বই পড়ছি, অনুবাদের ভাষা ছিলো যথোপযুক্ত, তার শব্দ চয়ন ও লেখনশৈলী ছিল অনবদ্য ।
ব্যক্তিগত রেটিং
৪.৬/৫
লেখক পরিচিতি
একাধিক বেস্টসেলার অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলারের লেখক জেমস রোলিন্সের জন্ম ১৯৬১ সালে আমেরিকার শিকাগোতে। ইউনিভার্সিটি অব মিশৌরি থেকে ভেটেনারি মেডিসিনের উপর পড়াশুনা করলেও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ লেখক হবার জন্যে ত্যাগ করেন সেই পেশা। ছোটোবেলা থেকেই বই আর অ্যাডভেঞ্চার লেখার প্রতি দারুণ আগ্রহী রোলিন্স, ফারাও রাজা তুতেন খামেনের কবর আবিষ্কারক হাওয়ার্ড কার্টারের জীবনকাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেন লেখালেখি । রোলিন্স ব্যক্তিগত জীবনে একজন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ, তার প্রায় প্রতিটি রচনাতেই দেখা যায় অ্যাডভেঞ্চারের ছাপ । জেমস রোলিন্স বর্তমানে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন ।
বই ফটোগ্রাফি
রুদ্র রহমান
[ ছবিটা একটি জঙ্গলে তুলেছি ]
বইয়ের নাম: আমাজনিয়া
লেখক: জেমস রলিন্স
অনুবাদক: রাকিব হাসান
ধরণ: থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার
প্রকাশন: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: ডিলান
প্রথম প্রকাশ: ২০১৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৫
মুদ্রিত মূল্য: ৫৮০