বউনামা উপন্যাসটি মূলত রোমান্টিক রম্যরচনা। বিবাহ, প্রণয়, বিবাহ পরর্বতী সংসার জীবনের মধুরতা, সংকট এসবই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র আসিফ ইকবালকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি প্রাণ পেয়েছে এবং গল্প এগিয়েছে। আসিফ স্বভাব ও কাজে-কর্মে কিছুটা বোকা প্রকৃতির। মেয়ে দেখতে গিয়ে সে মেয়ের বোনকে দেখে আসে। বিভিন্ন সময় নানা ধরনের উল্টোপাল্টা কাজ করে যা হাসির উদ্বেগ ঘটায়।
অবশেষে একপর্যায়ে মেয়েকে না দেখেই সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মনে সেই অপরিচিতার জন্য অপেক্ষা, উত্তেজনা, ভয়, আশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করে। সে নিজ মনেই আকুতি জানায়, “ওগো অপরিচিতা,তোমার পরিচয়ের শেষ হইলো না, হবে না।”
আসিফ কি তার অপরিচিতাকে চিরদিনের জন্য আপন করে পেয়েছিল?
তাদের কি বিয়ে হয়েছিল? হলে সংসার জীবন কেমন ছিল?
এ সবকিছু জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।
এই উপন্যাসটিতে আসিফের বিয়ে সম্পর্কিত বিষয়ে ভাবনা ও দৃঢ়চেতা মনোভাব ফুটে উঠেছে যা আমাকে অভিভূত করেছে। যৌতুক বা উপহারের মোড়কে বিভিন্ন জিনিসের আদান প্রদান যা পাত্রীপক্ষের জন্য বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত চাপ আর পাত্রপক্ষের জন্য অসম্মানজনক। অপরদিকে অতিরিক্ত দেনমোহর আদায় পাত্রপক্ষের জন্য একরকম চাপিয়ে দেয়া বোঝা আর পাত্রীর জন্য অপমানজনক। আসিফের অভিমত ‘অতিরিক্ত দেনমোহর বা জিনিসপত্র কখনই সম্পর্কে ভালো থাকার মানদন্ড হতে পারে না বরং শুরুতেই দাম্পত্য জীবনে তিক্ততা সৃষ্টি করে।’
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ হতে এই বিষয়গুলো যেমন সঠিক পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জন্য যা খুবই উপযোগী এবং একজন বিবেকবান ব্যক্তির জন্য অনুকরণীয়। বইটি পড়লে এ বিষয়ে আরো সবিস্তারে জানা যাবে।
বইটি পাঠ করে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে বিয়ে সম্পর্কিত আরো কিছু সংকট ও সমাধানের বিষয় উঠে আসতে পারতো। এই বইটির মাধ্যমেই পাঠক হিসেবে লেখকের সাথে প্রথম পরিচয়। লেখক সম্পর্কে ফ্ল্যাপে জেনেছি তিনি লেখাপড়ার পাট চুকিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে। কর্মসূত্রে ইঞ্জিনিয়ার।
পাঠকরুপে বইটি পড়ে নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। বইটি আগাগোড়া ভালো লেগেছে। রোমান্টিক রম্যরচনা পড়তে যারা পছন্দ করেন তারা বইটি পড়তে পারেন বলে আমার মতামত।
ব্যক্তিগত রেটিং : ৮/১০
বইয়ের নাম: বউনামা
লেখক: আসিফ মাহমুদ
ধরণ: রম্য সাহিত্য
প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন
প্রচ্ছদ: নিয়াজ আহমদ খান
প্রথম প্রকাশ: ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
মুদ্রিত মূল্য: ৩৪০