“যদি আমার অনুভূতির অভিধান বাজারে মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে তো আমার লেখার সার্থকতা বিচার করা খুব সহজ হয়ে গেল। আর অন্যদিকে আমার এই বই যদি চারদিকে সাড়া ফেলে দেয় তাহলে তো কথাই নেই। আমার বইয়ের সাফল্যের ব্যবচ্ছেদ হবে আমার খ্যাতির উনুনে আগুন দিয়ে।”
তাহসান যথার্থ ভাবনাই ব্যক্ত করেছেন তার লেখা প্রথম বইয়ের ১০৬ নম্বর পৃষ্ঠায়। গুঞ্জন উঠেছিল, খ্যাতির জোরে আর ভক্তদের অন্ধ প্রীতিতে বাজার পেয়েছে “অনুভূতির অভিধান”। তবে আমি মনে করি এই বইয়ের যতটুকু কদর করেছে পাঠকরা, তা শুধু তার খ্যাতিতে অন্ধ হয়ে নয়। আমি তাহসানের বড় অনুরাগী নই, আবার একেবারেই অনুরাগহীনও নই আমি। মোটামুটি নিরপেক্ষ অবস্থানের পাঠক হিসেবে বইটি পড়ে আমার যা মনে হয়েছে, তা-ই থাকছে আমার রিভিউয়ে।
হালের হালকা ভাষার গল্প উপন্যাস পড়ে যাদের অভ্যাস, তাদের কাছে এই বইয়ের ভাষাকে একটু ভারী মনে হবে বলে ধারণা করি। আমার নিজের তেমন অসুবিধা না হলেও এটুকু বলতে চাই, শব্দ চয়ন আরও সাবলীল হলে ভালো হত। ওজনদার সব শব্দের অবিরাম স্রোতে আরাম হারাতে পারেন পাঠক। তবে পড়তে পড়তে মাঝামাঝিতে গেলে সেই স্রোতের সাথে সমঝোতা হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
নিত্যদিনের জীবনে মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন অনুভূতিকে নিয়ে লিখেছেন তাহসান। নিজের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেছেন অনুভূতিগুলোকে। সেসব নিয়ে একটা করে কবিতা জুড়ে দিয়েছেন প্রতিটা অধ্যায়ের শেষে। পড়তে গিয়ে কবিতাগুলোকে একটু বেশিই দুর্বোধ্য মনে হয়েছে আমার কাছে।
আমি বিশেষভাবে বইয়ের আলংকারিকের প্রশংসা করব। কবিতার আগের পৃষ্ঠায় প্রাসঙ্গিক একেকটা ছবি। সত্যিই, আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে ছবিগুলোকে!
লেখনীতে মুনশিয়ানা দেখে তাহসানকে একজন সুলেখক বলে অ্যাখ্যা দিতে আমার মনে কোনো দ্বিধা নেই। ত্রুটি বলতে কয়েক জায়গায় শব্দের সাথে প্রয়োজনীয় বিভক্তির অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে আমার।
আমি একটা ধন্যবাদ দিতে চাই লেখক তাহসান খানকে, ‘শাদেনফ্রয়দ’ আর ‘মনাকপ্সিস’-এ মতো নাম না জানা দুটো চেনা অনুভূতিকে নাম ধরে চেনানোর জন্য!
এ বই ভাবতে বলে, বের করে নিতে বলে নিজের নিত্যদিনের ঘটনার ফলশ্রুতিতে হওয়া আর নিত্যদিনের কাজের নেপথ্যে থাকা অনুভূতিগুলোকে বিশ্লেষণ করার জন্য সামান্য অবসর।
বইয়ের নাম: অনুভূতির অভিধান
লেখক: তাহসান খান
ধরণ: গল্প
প্রকাশন: অধ্যয়ন
প্রথম প্রকাশ: ২০২১
মুদ্রিত মূল্য: ২৭০