একটা প্রবাদ বাক্য আছে ‘ডোন্ট জাজ বুক বাই ইটস কাভার’ কিন্তু ‘চন্দ্রগ্রহণ’ বইটিতে প্রচ্ছদশিল্পী রহমান আজাদ যেভাবে তার শৈলীর প্রকাশ ঘটিয়েছেন তা প্রথম দেখাতেই পাঠককূলকে আকর্ষিত করবে। এ বইটি শুধু প্রচ্ছদের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সংগ্রহ করলেও আশাহত হওয়ার বিন্দুমাত্র কারণ কেউ খুঁজে পাবে না। কেন না একটি মেয়ের মৃত্যুর রহস্য একজন সাইক্রিয়াটিস্ট এর মাধ্যমে লেখক দারুণভাবে উদঘাটন করেছেন যা পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে।
গল্পের শুরুই হয় ট্রেনের ভিতরে সাবের সাহেব নামে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট আর মিতু নামের এক রূপবতী মেয়ের কথোপকথন দিয়ে। মেয়েটি তার বড় বোন ইলার মৃত্যুর পরে বেশ কিছুদিন ধরে ইলার মুখে “Why me,why me?” শব্দগুলো শুনতে পায়।এ সমস্যার সমাধানের জন্যই সে সাবের সাহেবের কাছে আসে।
গল্পের বিভিন্ন অংশে আছে, মিতুর বাবা তার থেকেও বেশি তার বড় বোনকে ভালোবাসতেন, যার কারণে ইলাকে মিতুর সহ্য হতো না। ইলার মৃত্যুতে বেশ খুশিই হয় সে। ইলা আজগর খানের নিজের মেয়ে না তবুও কেন তাকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া হতো আর কিভাবেই সে মারা গেলো গল্পের মূল রহস্যই তাই।
সাধারণত খুনি তার আত্মগ্লানি থেকে ভিক্টিম এর কান্না শুনতে পায়।যেহুতু মিতু ইলাকে সহ্য করতে পারতো না সেহেতু ইলার মৃত্যুতে সে জড়িত নাকি অন্য কোনো কারণ? বই পড়লেই জানা যাবে।
মূলত ইলার “Why me, why me!” বলার কারণ খুঁজতে গিয়েই হাজারটা রহস্য সামনে আসে,যার শেষ পরিণতির জন্য পাঠক মোটেও প্রস্তুত থাকে না।
সবারই মনে আফসোস থেকে যায়,পরিণতি এমন না হলেও পারতো।তবে আজগর খানের নিজের মেয়ে মিতু থেকেও ইলাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার পেছেনে যে অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে তা-ই মূলত পুরো গল্পকে ভিন্ন আঙ্গিকে নিয়ে গেছে।
এ ধরনের বই আসলেই আমাদের চিন্তা-ভাবনার প্রসার ঘটায়।আমরা প্রায়ই ঘটে যাওয়া ঘটনায় চিন্তা না করেই ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাই। কিন্তু লেখক প্রফেসর সাবের সাহেবের মাধ্যমে দেখিয়েছেন কিভাবে শূন্য থেকে রহস্য উন্মোচন করতে হয়। চোখের পিউপিল এর সংকোচন প্রসারণ দেখে কিভাবে কেউ সত্য মিথ্যা বলে বের করার পদ্ধতিটা আমারে কাছে বেজায় ইন্টারেস্টিং লেগেছে।
বইয়ের নাম: চন্দ্রগ্রহণ
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: থ্রিলার উপন্যাস
প্রকাশন: প্রিয়মুখ
প্রচ্ছদ: রহমান আজাদ
প্রথম প্রকাশ: ২০১৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
মুদ্রিত মূল্য: ২০০