২০১৬ সালে কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম হওয়ায় “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” বইটা পুরষ্কার পাই। কিন্তু তখন মাত্র ক্লাস সিক্সে থাকায় আমার ধারণা ছিল বইটা রাজনৈতিকমূলক, তাই আর পড়িনি। এরপর ২০১৭ সালে সপ্তম শ্রেণিতে আবার ক্লাসে প্রথম হওয়ায় এই বইটা পুরষ্কার হিসেবে পাই, এরপর ভাবলাম আমার এইটা পড়া উচিত। অলসতায় আর পড়া হয়নি।
এরপর বাবা রাজনীতিবিদ হওয়ায় বাবাও গিফট পেয়েছিলো বইটা, এই ভাবে আমাদের বাসায় যেন এই বইটার বাহার হয়ে গেছে।। কিন্তু আমি বইটা পড়িনি অইভাবে। উল্টেপাল্টে দেখতাম শুধু। মনে হতো আমি কিছুই বুঝবো না।একাদশ শ্রেণিতে উঠার পর দেখলাম আমাদের পাঠ্যবইয়ে “বায়ান্নর দিনগুলি” নামক একটা গল্প আছে। ওইটার লেখক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং গল্পটার উৎস “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” এরপর এ অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটা পড়ার জন্য মন ব্যাকুল। পড়তে শুরু করলাম।
এক মাস সময় নিয়ে পড়েছি যেহেতু আমার একাডেমিক পড়াশুনা থাকে । বইটা পড়তে গিয়ে আমি পুরো ১৯৫২-১৯৫৫ ওই সময়টাতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের জাতির পিতার সেই অমর কাহিনি আমাকে বাধ্য করছে চোখের জল ফেলতে। তাঁর শৈশব- কৈশর। ছেলেবেলার কাহিনিগুলো এত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন বইটিতে। উফফ! আফসোস এত দিন কেন পড়লাম না?
এইবার আসি রাজনৈতিক জীবনে। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষা, অমরত্ব সব কাহিনি যেন একটা বীর এর গল্পের মতো করে লেখা। পড়তে পড়তে হারিয়ে গিয়েছিলাম সেই জগৎ এ। এটাতো কোনো সাধারণ গল্প নাহ। একজন অসাধারণ মানুষের জীবনাচরণ। এই বইটা পড়ে আমার এই ধারনাটা ভেঙে গেছে এটা শুধু রাজনৈতিক জীবন না একজন বাবার জীবন। কিভাবে সন্তান পরিবার ছেড়ে দিনের পর দিন বিনা দোষ-ত্রুটিতে কারাবরণ করেই গেছেন দেশের মানুষের জন্য। যার জন্য আজ আমরা নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করতে পারি।
শুধু বলবো, এত সুন্দর জীবন্ত কাহিনি সবার জানা উচিত। বাঙালি হিসেবে সবার অধিকার এটা জানা। বীরের কাহিনি জানা।
বইয়ের নাম: অসমাপ্ত আত্মজীবনী
লেখক: শেখ মুজিবুর রহমান
ধরণ: আত্মজীবনী
প্রকাশন: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড
প্রচ্ছদ: সমর মজুমদার
প্রথম প্রকাশ: জুন, ২০১২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৯
মুদ্রিত মূল্য: ২২০