বাস্তবে বর্তমান সময়ের প্রায় প্রত্যেক মুসলিমই কোনো না কোনো মাত্রায় জাতিগত হীনমন্যতাবোধ, পরাজিত মানসিকতা, আর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বা আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগেন তাই বলতে গেলে বর্তমানে সময়ের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রত্যেক মুসলিমের জন্যই এই বইটি অবশ্য পাঠ্য চিন্তাপরাধ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক এটম বোমা।
আপনি কি জানেন,আমরা যারা এদেশে বাস করি সবাই আমেরিকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খরচ বহন করি? আপনি কি জানেন, আমরা সবাই পশ্চিমের বানানো পণ্যের মার্কেটিং বিনামূল্যে করে দেই! আপনার অজান্তেই? আপনি কি জানেন, আপনার উৎপাদিত পণ্য আপবাদেরই কাছে বিক্রি করে মুনাফা দ্বিগুণ কামায় পাশ্চাত্যের উদারমনারা?
এগুলোর সন্নিবেশনের কাজটা পশ্চিমে হয়েছে বলে, পশ্চিমে সন্নিবেশিত সবকিছুকেই রিয়ালিটি মনে করার একটা প্রপেনসিটি সাবেক নেটিভদের মধ্যে কাজ করে। পশ্চিমের সোশাল সাইন্সগুলোকেও আমরা পদার্থবিজ্ঞান,রসায়ন-গণিতের মত সঠিক মনে করি।এগুলো সঠিক ধরে আলোচনা চালাই। অর্থনীতি-পৌরনীতি-রাষ্ট্রবিজ্ঞান-সমাজবিজ্ঞান-নৃতত্ত্ব-মনোবিজ্ঞান-দর্শন এগুলোর সকল তত্ত্বের মূল তত্ত্ব হল ‘ব্যক্তি’র ধারণা। এই ‘ব্যক্তি’র সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে সব সামাজিক বিজ্ঞানগুলো দাঁড়ানো। বস্তুবাদ,ভোগবাদ,পুঁজিবাদের দেয়া ব্যক্তির সংজ্ঞার সাথে ইসলাম একমত নয়। ফলে পশ্চিমা সামাজিক বিজ্ঞানগুলোও ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। এগুলোকে সঠিক মনে করা মানসিক বেড়াজালের পরিচায়ক।
কয়েককটা লাইন লিখে এই বইয়ের বিষয়বস্তু ধারনা দেয়া খুবই কঠিন।একটাই অনুরোধ থাকবে পড়ুন বইটি। ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে পড়ে ফেলুন। এই বই পড়লে হয়তো আপনি ভবিষৎ বিজ্ঞানী কিংবা বিপ্লবী হতে পারবেন না কিন্তু বিশাল এক ধোঁকা থেকে বাঁচতে পারবেন।
এই বইটা কেবল কিছু প্রপেনসিটি পরিবেশন নয়। বিষয়বস্তু একটু কঠিন বটে।তাই পড়বা সময় মনোযোগটা একটু বেশীই দিতে হবে।
যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য নিয়ে। প্রশ্ন করা যাবে না হুবালের কর্তৃত্ব নিয়ে। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের যুগে এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। অপরাধী বলে বিবেচিত হবার জন্য কিছু করার, এমনকি বলারও প্রয়োজন নেই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোনো চিন্তা থাকাই যথেষ্ট। এসব চিন্তা অবৈধ, এসব চিন্তা অপরাধ।
গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, নারী অধিকার ইত্যাদি ফাঁকা বুলি আওড়ে পাশ্চাত্যের রঙিন চশমা পরিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখায় মুক্তমনার (নাকি উচ্ছৃঙ্খলার। আর শ্বেত সন্ত্রাসীদের হয়ে এদেশে এজেন্ট হয়ে কাজ করে যাচ্ছে জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির, খুশি কবির, প্রিয়া সাহা, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো উচ্ছিষ্টভোগীরা।
আমাদের স্বপ্ন দেখায় বিজ্ঞানমনস্ক হতে।
আমাদের এটা বুঝায় পশ্চিমের মানবসৃষ্ট আইনই শ্রেষ্ঠ, বাকি সব ভূয়া। প্রশ্ন করা যাবেনা। যেহেতু এবিষয়ে চিন্তা করলেই সেটা অপরাধ, ‘চিন্তাপরাধ’। তাই ভাবনাই যথেষ্ট।
ভৌগোলিকভাবে আমেরিকার সাম্রাজ্য হয়তো ৮৮+ লক্ষ বর্গকিলোমিটারে সীমাবদ্ধ, কিন্তু আরও একটা সাম্রাজ্য আছে, যা দেখা যায় না। সেটা হলো ওদের চিন্তা-চেতনা দিয়ে আমাদের ক্যাপচার করা। আমরাই সজ্ঞানে-অজ্ঞানে দাওয়াত দিয়ে এই ফাঁপা গ্যাস বেলুন এনেছি।
এই বইটা পড়ার পরে আমি চোখের পানি রাখতে পারি নি।এক কথায় মাস্টারপিস, প্রত্যেক মুসলিমের একবার পড়া উচিত।
বইয়ের নাম: চিন্তাপরাধ
লেখক: আসিফ আদনান
ধরণ: অন্ধকার থেকে আলোতে
প্রকাশন: ইলমহাউস পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশ: ১৯ মে ২০১৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
মুদ্রিত মূল্য: ১৯০