সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ সৃষ্টি ‘ফেলুদা’। গোয়েন্দা ফেলুদার রহস্যময় অ্যাডভেঞ্চার সব বয়সী পাঠককেই আকৃষ্ট করে। রহস্যের জট খুলতে ফেলুদার জুড়ি নেই। আর এবারের ঘটনাস্থল সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক।
গ্রীষ্মের ছুটিতে ফেলুদা ও তোপসের গ্যাংটক ভ্রমণ ও সেখানে ফেলুদার খুনের রহস্যে জড়িয়ে পড়া নিয়েই গল্প এগিয়েছে। গল্পে যেমন রহস্য আছে, তেমনি আছে গ্যাংটকের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জীবন্ত চিত্র। ফেলুদার সব গল্পের এক বাড়তি আকর্ষণ হলো দেশভ্রমণ।
গ্যাংটকে নেমেই পরিচয় হয় শশধর বোসের সঙ্গে। ভদ্রলোকের পারফিউমের ব্যবসা। শশধর বোসের বিজনেস পার্টনার শিবকুমার শেলভাঙ্কার। প্লেন থেকে নেমেই ওরা এক দুঃসংবাদ পায়। শেলভাঙ্কার দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গাড়ি করে যাওয়ার সময় পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ে একেবারে গাড়িতে লাগে আর গাড়ি খাদে পড়ে যায়। সিকিমের হাইওয়েতেই ঘটে অ্যাক্সিডেন্ট। পরেরদিনই শশধর বোস বম্বে যায়। গ্যাংটকে ঘুরে বেড়ানোর সময় হেলমুটের সাথে কথা বলে সবকিছু গণ্ডগোল মনে হতে থাকে ফেলুদার। শেলভাঙ্কারের মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড? তদন্ত করে ফেলুদা জানতে পারে শেলভাঙ্কার তার ছেলের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়ে কেন খুন হলেন শেলভাঙ্কার? ড.বৈদ্য কিভাবে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে হত্যাকারী সম্পর্কে জানলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে ‘গ্যাংটকে গণ্ডগোল’।
শেষ পর্যন্ত খুলে যায় রহস্যের জট। সামনে আসে আসল খুনি কে আর খুনের উদ্দেশ্যই বা কি। ফেলুদার এই শ্বাসরুদ্ধকর তদন্তের শেষ হয় গ্যাংটকের এক নির্জন বাগানবাড়িতে। পুরো গল্প জুড়ে ফেলুদার অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর গ্যাংটকের দারুণ সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে। পড়তে গেলে চোখের সামনে ছবির পর ছবি ভেসে ওঠে। সময় পেলে তাই পড়তে পারেন এই বইটি।
বইয়ের নাম: গ্যাংটকে গণ্ডগোল
লেখক: সত্যজিৎ রায়
ধরণ: রহস্য-গোয়েন্দা
প্রকাশন: আনন্দ প্রকাশনী (ভারত)
প্রচ্ছদ: সত্যজিৎ রায়
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
মুদ্রিত মূল্য: ২৭০
👏👏