এটি আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ের লেখা একটি বিখ্যাত নোভেলা! ১৯৫১ সালে বইটি লেখা হয় আর প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে! এই বইয়ের জন্য ১৯৫৪ সালে আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ে নোবেল পুরষ্কারে পুরষ্কৃত হন!
গল্পের শুরুতেই আমরা পরিচিত হই দুটি চরিত্রের সঙ্গে! একজন সানতিয়াগো এবং অন্যজন ম্যানোলিন। সানতিয়াগো একজন বয়স্ক অভিজ্ঞ এবং দক্ষ জেলে। ম্যানোলিন তার খুব আদরের এবং ছাত্রস্বরুপ একটি চরিত্র। সানতিয়াগো টানা ৮৪ দিন একাধারে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে গেলেও কোনো মাছ ধরতে সে সক্ষম হয়না। আর এই কারনেই সকলে তাকে হতভাগ্য অমঙ্গলজনক বলতে শুরু করে। এমনকি ম্যানোলিনের বাবা মাও তাকে সানতিয়াগোর সাথে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেন! ফলে ৮৫তম দিনে সানতিয়াগো একাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যান এবং দিনের প্রায় শেষ প্রান্তে তার বড়শিতে একটি বিশাল আকৃতির মাছ ধরা পড়ে যেটির নাম মার্লিন। বাকিটা গল্পে সাবলীল ভাষায় সানতিয়াগোর মার্লিনকে ধরে কিনারায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা, মার্লিনের জীবন রক্ষার বিভিন্ন কলাকৌশল বর্ণনা করা হয়েছে! যেহেতু মার্লিন অনেক বৃহৎ আকৃতির ছিলো তাই তার শক্তি হ্রাস করার জন্য সানতিয়াগো তাকে আঘাত করে ফলে রক্তপাত হয় তখন কিছু শার্ক মার্লিনকে ঘিরে ধরে এবং তাকে খেতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সানতিয়াগো শুধু মার্লিনের কঙ্কালদেহ নিয়ে কিনারায় ফিরতে সক্ষম হয়! এমনই ছিলো মূল গল্পের প্রবাহধারা।।
আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে পরিলক্ষিত কিছু বিষয়:
১. আত্মসম্মান ও গৌরব টিকিয়ে রাখার জন্য মানসিক ও শারীরিক যুদ্ধঃ সানতিয়াগো সম্পূর্ণ একা সমুদ্র মাঝে মার্লিন আর শার্কগুলোর সাথে যুদ্ধ করে গেছে শুধুমাত্র নিজেকে প্রমাণ করতে ও আত্মসম্মান টিকিয়ে রাখতে!
২.জীবন মৃত্যুর সন্ধিঃ যদিও সানতিয়াগোর মার্লিনের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা ছিলো তবুও জীবিকা ও আত্মসম্মানের জন্য মার্লিনকে তার মারতেই হয়। কারো মৃত্যু কারো জীবিকার উৎস, এমনই পার্থিব বহমান নিয়ম।
আরো একটা বিষয়- কোনো কিছু অর্জনের বা প্রাপ্তির প্রচেষ্টা বা প্রত্যাশিত বস্তুর সৌন্দর্য অধিকাংশ সময়ই আত্মোপলব্ধির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। আশে পাশের মানুষকে তা বোঝানোর সক্ষমতা অধিকাংশক্ষেত্রেই অর্জিত হয় না। মার্লিনের যে সৌন্দর্য সানতিয়াগো উপলব্ধি করেছিলো তা অন্য কেউ বোঝেনি আর সমুদ্র মাঝে তার একা করা যুদ্ধ সকল প্রতিবন্ধকতার পরিমাণও শুধু সে একাই জানে!
এখানে প্রতিটি চরিত্র কিছু বিষয়বস্তুর রুপক-
সানতিয়াগোঃ আত্মসম্মান, গৌরব, কঠোর পরিশ্রমের রুপক
মার্লিনঃ শক্তি ও ক্ষমতার
ম্যানোলিনঃ কৈশোর, মানবজীবনের সোনালীবয়সের রুপক
শার্কঃ জীবনের অন্ধকার বা প্রতিবন্ধকতার
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বর্ননা সম্ভব গল্পটির। আর এই বহু দিকমুখীতা মত ভিন্নতাই হয়তো সাহিত্যের সব থেকে সুন্দরতম দিক!
বইয়ের নাম: The Old man and the Sea
লেখক: Ernest Hemingway
ধরণ: Literary Fiction
প্রকাশন: Charles Scribner’s Son’s
প্রথম প্রকাশ: September 1, 1952
পৃষ্ঠা সংখ্যা: 127 pages