Home অনুবাদ ব্রিজ টু টেরাবিথিয়া

ব্রিজ টু টেরাবিথিয়া

0
ব্রিজ টু টেরাবিথিয়া
‘ব্রিজ টু টেরাবিথিয়া’ খুবই সুন্দর একটা বই। জেসলি অ্যারন – অর্থাৎ যার ক্যারেক্টার থেকে উত্তম পুরুষে বইটা লেখা হয়েছে; ৯-১০ বছর বয়সী এক বালক। যার কিনা ইচ্ছা ছিল ক্লাসে সবচেয়ে দ্রুততম বালক হওয়ার। অথচ তাদেরই বাসার কাছাকাছি বাড়িতে এসে ওঠে দুঃসাহসিক এক মেয়ে- লেসলি। খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে তাদের বন্ধুত্বও হয়ে যায়। কিন্তু জেসের জীবনের সবচেয়ে সেরা দিনটাই সবচেয়ে জঘন্য দিন হয়ে ওঠে।
আপনজন হারানোর দুঃখ, চাইল্ডিস কাজকর্মের ভেতরে থেকেও বড়দের মতো আচরণ, মিস এডমান্ডসকে পছন্দ করা, বিরক্তিকর রকমের বড়ো দুইটা বোন থাকা, নিজেদের রাজ্য তৈরী করে রাজা, রানী হয়ে যাওয়া- ইত্যাদি ইত্যাদি গল্পটাতে আলাদা একটা টেস্ট এনে দিয়েছে।
ক্যারেক্টারগুলোর ব্যাপারে বলতে গেলে- ‘লেসলি’ মেয়েটা ঠিক আমার পছন্দমত একটা মেয়েই হয়েছে। (আই মিন, আমার যেমন মেয়েদের পছন্দ, কিংবা আমি নিজে যে টাইপের হতে চাই; ঠিক তেমনটাই।) এরপর ভালো লেগেছে ভাইয়ের নেওটা পিচ্চি ‘মেরি বেল’কে। আরও ভালো লাগা দের মধ্যে ‘জেস’ তো আছেই।
ক্যাথেরিন প্যাটারসনের লেখার ধরণ ইম্প্রেসিভ ছিল। নাহয়- ছয় বছর বয়েসী বাচ্চা মেয়েকে আগে ডান পা পরে বাম পা ফেলার কথা বললে তাতে, ‘ডান পা কোনটা ভুলে গেছি’ টাইপ উত্তরই যুতসই। কিন্তু ছোটদের যে ডান বাম চেনা শিখতে সময় লাগে সেটা উল্লেখ করে এখানে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বৈকি। অনুভুতি গুলোর মধ্যেও কোন ফাঁক ছিল না। ১০ বছর বয়সী একটা ছেলে যেমন কান্নার আগেই নিজেকে সামলে নিয়ে নিজেকে বড় ছেলের মতো মনে করতে থাকে, সে ব্যাপারটা ফুটিয়ে তুলতেও তিনি ভুল করেননি।
আর… সালমান হকের অনুবাদ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। টেরাবিথিয়া থেকে দড়ি বেয়ে ফেরত যাওয়ার সময়, মজার দেশ কবিতার পঙক্তি উঠে আসার ব্যাপারটা ভালো ছিল। উনি বর্তমান বেস্ট অনুবাদকদের একজন।
প্রচ্ছদটাও সুন্দর, ম্যাজিকাল টাইপের।
সর্বশেষে মেইন কথা হচ্ছে, If you can read it with a pure heart, you’ll really gonna love it forever and ever.

বইয়ের নাম: ব্রিজ টু টেরাবিথিয়া
লেখক: ক্যাথেরিন প্যাটারসন
অনুবাদক: সালমান হক
ধরণ: অনুবাদ
প্রকাশন: বুক স্ট্রিট
প্রচ্ছদ: আসলাম
প্রথম প্রকাশ: ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
মুদ্রিত মূল্য: ২৬০

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here