১. গোপ্যার বউ : চাপাবাজিতে গোপ্যা ঘনাদাকেও হার মানায়। এই সাপের ফণায় চড়ে শাপলা ফুল তুলে আনে, ওই মৌকেক চড়ে আকাশে ঘুরেফিরে আসে। আবার, কচুগাছের ডালে ওঠে, ডাল ভেঙে শালার বাড়িতে ভোজ দিয়ে আসে। এক ছালা চাপাবাজির গল্প ফেলে আসতে গিয়ে আরো এক ছালা গল্প মাথায় নিয়ে ফেরত আসে।
২. আয়না : রবীন্দ্রনাথের ‘আয়না’ গল্পটা ক্লাস সিক্সের আনন্দপাঠ বইয়ে প্রথম পড়েছিলাম। আবারো পড়ে বউটার ছাগলামি মার্কা কথাবার্তায় মজাই লাগল।
৩. নাপিত-ব্রাহ্মণ : এক নাপিতের নাপিত গিরি ছেড়েছুড়ে অন্য অঞ্চলে গিয়ে ব্রাহ্মণ পন্ডিতি করার গল্প।
৪. নাপিত ডাক্তার : বাবা প্রায় সময়ই ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরি’ – ব্যাপারটা বোঝাতে এই গল্পটা বলেন। এটা পড়ে মনে হয়েছে, ‘ওরে, এটা তো আব্বুর সেই গল্পটা! ‘শিক্ষামূলক দিকটা ধরতে পারলে ভালোই লাগবে।
৫. জিদ: বাপরে বাপ! মাছ খাওয়া নিয়ে এত জেদ করে কবরে ঢোকানোর পরে কিনা জেদ পড়লো! হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাবার জোগাড়।
৬. কে বড় : এ গল্পটাও এর আগে আপুর কাছে শুনেছিলাম। তখনও আগা-মাথা-মুন্ডু কিচ্ছু বুঝিনি, এবারো না….
৭. পরের ধনে পোদ্দারি : গোবেচারা তালেম-এলেম ধরে নিয়ে গেলে যা হয়। আমও গেল, ছালাও গেল। হাইস্যকর।
৮. টুনটুনি আর টুনটুনা
৯. টুনটুনির বুদ্ধি : টুনটুনার পিঠে খাওয়ার শখ জেগেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে উপকরণ সংগ্রহ করায় সিংহের কাছে ধরা পড়ায় তাকে খাওয়ায় গোবরের পিঠে। আর টুনটুনার হ্যাঁচ্চোর সাথে ভূতের ভয়ে লেজ গুটাইয়া সিংহ মশায় দে চম্পাট।
১০. জামায়ের শ্বশুরবাড়ি যাত্রা : ছায়া’কে কেউ পিছু ছাড়তে পারে! তা করতে গিয়ে কিনা বউয়ের জন্য কেনা শাড়ি গয়না সব ছায়াকে দিয়ে রাস্তায় ফেলে এসেছে। অবশ্য মায়ের অতি বুদ্ধিহীন বাধ্য ছেলে কিনা!
১১. চুক্তি: আমি এখঅন পর্যন্ত কৃপণ মানুষের মধ্যে আমার ছোটমামাকেই দেখেছি। কিন্তু এ জগতে যে ইহার চেয়েও বৃহৎ কিপ্টেরও স্থান আছে তাহা জানিতাম না।
১২. গুরু ঠাকুরের ভাগবত পাঠ : ” এমন মধুর নাম আর কোথাও খুঁজিয়া পাইবে না। এই নামের মোহে ভুলিয়া রামছাগল ঘাস খাইতে খাইতে ঘন ঘন দাড়ি নাড়ে। বোলতার চাক মাথায় পরিয়া শেয়াল মামা সারারাত ভরিয়া হুক্কা-হুয়া করিয়া এই নাম উচ্চারণ করে – ভীমরুলের বাসায় বসিয়া বসিয়া দিনরাত রামভালুক এই নাম কান পাতিয়া শোনে। বল, বল ভক্তগণ, কিয়, ক্ষিয়, ঘিয়। ” – এমন জিনিস যদি হয় গুরুঠাকুরের ভাগবত পাঠ, তবে আমরা কেন পাঁচ টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। হ্যাঁ, তবে – কারো যদি একান্তই লোভ হয় তবে গুরু ঠাকুরের মতোই ভক্তদের সগ্যপুণ্যির উপকরণ দাড়ি কাড়াকাড়ি চলতে পারে। আহা, বেচারা গুরুঠাকুর!
১৩. সত্যকার আলসে : “কত রবি জ্বলে!” “কেবা আঁখি মেলে।” আগুন লাগার পরও এসব কথা যারা বলতে পারে, তবে ভাই তোরাই সত্যকার আলসে।
১৪. ঠেলাঠেলির ঘর : দুই বৌয়ের ঠেলাঠেলিতে স্বআমী বেচারার অবস্থা নাজেহাল।
১৫. দিগবিজয়ী পন্ডিত : লাউয়া ফলং মানে কি? ইহা কিনা পন্ডিতের প্রশ্ন! লাউগাছ জন্মানো। হায় খোদা! আমি কই যাবো …?
১৬.তিন মুসাফির
১৭. বোকার বাণিজ্য : হাসির গল্প তো না, পেট ফাটিয়ে ফেলার জোগাড়।
১৮. তুমভি কাঁঠাল খায়া
১৯. সেরটা কত বড়
২০. সমানে সমান
২১. ভাগাভাগি
২২.ঠাকুরমশায়ের লাঠি
২৩. মাঝি ও পন্ডিত: এই গল্পটা আর সুকুমার রায়ের ‘জীবনের হিসাব’ কবিতাটা সম্পুর্নরুপে একই। শুধুমাত্র – এটা গল্প আর ওটা কবিতা।
২৪. আমের স্বাদ
২৫. অনুমতিপত্র কে দেখাইবে?
২৬. শ্বশুর জামাই
২৭. অচ্ছুৎ : সমাজেও এমনি বড়লোকেরা বড়াই করে চলে। আর যারা না থাকলে তাদের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না, তাদেরকেই অবহেলা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। এটা সম্ভবত বইয়ের সবচেয়ে শিক্ষামূলক গল্প।
[আমার নিতান্তই ধৈর্য কম। কিছু গল্পের ব্যাপারে আরো কিছু বলার দম কুলোচ্ছে না।]
রেটিং তিন দিলে জসীম উদ্দীনের বারো তেরো বছরের পরিশ্রমকে অবমাননা করা হতো। তাঁর এই কাজটা আসলেই Folk tales of Bangladesh.
বইয়ের নাম: বাঙ্গালীর হাসির গল্প ১
লেখক: জসীম উদদীন
ধরণ: রম্য সাহিত্য
প্রকাশন: পলাশ প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ১৯৯০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০
মুদ্রিত মূল্য: ২২০