‘আমার বন্ধু রাশেদ’ বইটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত দুঃসাহসী এক কিশোর রাশেদের গল্প। দেশকে স্বাধীন করার মহান সংগ্রামে কিশোররাও যে অবদান রাখতে পারে তা মুহম্মদ জাফর ইকবাল অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
‘রাশেদ’ নামটি সেই কিশোরের স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকের দেয়া নাম। তার বাবা সন্তানের ভালো নামও দেন নি। এমনকি তার সাথে রাজনৈতিক আলোচনা করেন। তাই রাশেদ যেন অন্যদের থেকে আলাদা। হয়ত তার এই ব্যক্তিত্বই তার সহপাঠীদের আকৃষ্ট করেছে। একসময় শোষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। তখন স্কুলছাত্র রাশেদও যোগ দেয়। রাত-বিরাতে মিছিলে স্লোগান দেয়, মুক্তিবাহিনীর সাথে সখ্য গড়ে তোলে। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না তার বয়সের জন্য। তবে অস্ত্র সরবরাহ, তথ্য জোগাড় করা, হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি উড়িয়ে দিতে ম্যাপ তৈরি করাসহ নানাভাবে সহায়তা করে মুক্তিবাহিনীকে। এসব কাজে রাশেদের বন্ধু আশরাফ, ফজলু, ইবুরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বয়স কম হওয়ায় শুরুতে তাদের কেউ সন্দেহ করেনি।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো শফিক ভাইকে উদ্ধার করা। কিশোররা এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা ও নির্ভীকতার পরিচয় দিয়েছে। রাশেদ ও তার বন্ধুরা মুক্তিবাহিনীর সদস্য শফিক ভাইকে হানাদারদের হাত থেকে এক দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে রক্ষা করে। সেটি জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। গ্রামের অনেকে পালিয়ে গেলেও রাশেদ এবং তার কিশোর দল সাহসিকতার সাথে প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছে। কিন্তু একসময় রাশেদের বন্ধুরা পরিবারসহ চলে যায়। একা হয়েও দমে যায়নি রাশেদ।
মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে রাজাকার আজরফ আলির সন্দেহ হয় রাশেদকে। গ্রেনেডসহ ধরা পড়ে সে। আজরফ আলির হাতেই শহিদ হয় রাশেদ। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তার নির্ভীক মনোভাব মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় মনোবলের প্রতীক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাশেদের বন্ধুরা এসে তাকে আর দেখতে পায়নি।
পুরো উপন্যাস জুড়ে রাশেদের সাহস, যুদ্ধকালীন অবস্থার জীবন্ত চিত্র পাওয়া যায়৷ তবে শেষে রাশেদের মৃত্যুর ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। পড়তে গেলেই মনে হয় শেষটি এমন না হলেও পারতো। যুদ্ধের পাশাপাশি আছে কয়েকজন কিশোরের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প, গ্রামের পরিবেশে বেড়ে ওঠা, তাদের ছাত্রজীবন, কৈশোরকালীন স্মৃতি। পড়ে যেন ছোটবেলায় হারিয়ে যেতে হয়। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় রাশেদের মৃত্যু। স্বাধীন দেশের জন্য লড়াই করেও স্বাধীন দেশ দেখা হলো না তার।
মুক্তিযুদ্ধে এমন নাম না জানা কত কিশোর আত্মত্যাগ করেছে। তাঁদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় এই বইটি। উপন্যাসটি নিয়ে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে। বইয়ের মতো চলচ্চিত্রটিও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
বইয়ের নাম: আমার বন্ধু রাশেদ
লেখক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
ধরণ: কিশোর উপন্যাস
প্রকাশন: কাকলী প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: সাদাতউদ্দীন আহমেদ এমিল
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০
Well done!
Thank u 😊