রাজীব হোসাইন সরকার এর লেখা টু হান্ড্রেড ডেইজ বইয়ে মোট সাতটি গল্প রয়েছে। সাতটি গল্পের মধ্যে ৫টি রহস্য গল্প হলেও আমগাছ এবং পুনঃজন্ম সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের।
আমগাছ গল্পটিতে দারিদ্রতার মাঝে বড় হওয়া একটা ছেলের গল্প ও ভাইদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং তার সাথে তার অন্ধ মায়ের দূরত্ব নিয়ে গল্পটি শুরু হলেও এই গল্পের বিশাল একটা জায়গা জুড়ে আছে আমগাছ।
আর পুনঃজন্ম গল্পে বাবা ও ছেলের সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।এই গল্পেও দারিদ্রতা প্রাধান্য পেয়েছে, ছেলের কর্মব্যস্ততার কারণে ছেলের সাথে বাবার দীর্ঘদিন দেখা হয় না, ছেলে চায় বাবার সাথে দেখা করতে কিন্তু সময় না মেলার কারণে তাদের দেখা হয় না। গল্পটার শেষটা খুব করুণ।
বাকি পাঁচটি গল্প খুবই সুন্দর, প্রতিটাতেই প্রতিটি লাইনেই রহস্য এর গন্ধ পাওয়া যায়।
কন্যা গল্পটিতে বাবার তার অদেখা মেয়ের প্রতি তীব্র ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অদেখা মেয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে তার একটি কাল্পনিক চরিত্র ধরে নেওয়া এই গল্পের মূল বিষয়বস্তু। প্রফেসর নাজিব সবটা বুঝতে পেরে কিভাবে গল্পটির সমাধান করেছেন তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
পরকীয়া গল্পটি আমার খুব ভালো লেগেছে,এই গল্পে প্রফেসর নাজিব এর প্রতিটা কথাতেই এক একটা রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।ভালোবাসার মানুষ সব সময় ব্যস্ত থাকায় তীব্র অভিমান এবং পরকীয়ার সন্দেহ এর জের ধরে গল্পটিতে খুন হয়েছে। কিন্তু গল্প শেষ হয়ে গেলেও জানা যায় যায়নি আসলেই মানুষটি পরকীয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কিনা।
ব্যাকটেরিয়া মানব গল্পটি পড়তে গিয়ে আমি রীতিমতো ভয় পেয়েছি। কিন্তু এ গল্প আমার যে বিষয়টি সব চেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো লেখক এর নাম এ গল্পে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের অন্যতা করে ব্যাকটেরিয়ার জিন মানবদেহে স্থানান্তর করার কারণে যে ভয়াবহ রুপ দেখা গিয়েছে তা নিয়েই গল্প, তবে এই গল্পটাও শেষ হয় অনেক কিছু ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে।
টিউটর গল্পটিতে শুরুতে ছাত্রীর শিক্ষকের প্রতি ভালবাসা দেখালেও এবং তা থেকে তার বাবা শিক্ষক কে মারার কারণে সে এতটাই অসুস্থ হয় যে তাকে আইসিইউ তে ভর্তি হতে হয় এবং পরে প্রফেসর নাজিব পুরো ঘটনা উলটো তা প্রমাণ করলেও এখানে অব্যাখ্যায় কিছু বিষয় শেষ পর্যন্ত থেকে যায়,যা লেখক নিজেই গল্পের শুরুতে বলেছেন। তিনি বলেছেন পৃথিবীতে ব্যাখ্যার অতীত পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটে, যা প্রতিটি রহস্যপূর্ণ গল্প দৃশ্যমান।
কালোগোলাপ গল্পটি শেষ গল্প এবং আমার কাছে খুবই প্রিয়। প্রফেসর আজিজুল হক বাগান একাকীত্ব থেকে বাগান করা শুরু করেন,কিন্তু লাল গোলাপ এরগাছ গুলা মারা যাওয়ায় তার মাথায় অদ্ভুত এক শখ জাগে, তিনি এক ভিন্নভাবে গাছের যত্ন নেওয়া শুর করেন এবং গাছের রং লাল থেকে কালো হয়ে যায়। আমার ও গল্পটি পড়ে একবার সেই প্রক্রিয়াটি গোলাপ গাছে করে দেখার ইচ্ছে জেগেছিল।
টু হান্ড্রেড ডেইজ বই এর প্রতিটি গল্প খুবই সুন্দর। ছোট গল্প হওয়ায় গল্প শেষ হওয়ার পর ও আরো জানার আগ্রহ থেকে যায়।এবং পাঠক তার ইচ্ছে মত বাকিটা কল্পনা করে নেয়।
এই বই এর উৎসর্গপত্র টাও দারুণ।এছাড়াও গল্পে রাজীব নাম না রেখে নাজীব রাখার কারণ হলো নাজীব এর শুরুর না দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র।
আর এই বইয়ের নাম টু হান্ড্রেড ডেইজ রাখার একটা ব্যাখা আছে।
সব মিলিয়ে বই টি আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে,এবং যারা রহস্য গল্প পড়তে পছন্দ করেন তার কাছে ভালো লাগবে বলে আমি বিশ্বাসী।
বইয়ের নাম: টু হান্ড্রেড ডেইজ
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: রহস্যগল্প
প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন
প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
প্রথম প্রকাশ: ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ২২০