তখন নিয়মিত কিশোর আলোর কুইজের উত্তর পাঠাতাম। তারই একটি সংখ্যায় (এপ্রিল ২০১৪ খুব সম্ভবত) লটারিতে নাম আসায় পুরষ্কারস্বরুপ বইটি পাই। হাতে পেলাম পরের মাসে। কভার আর ভেতরে একটু উল্টেপাল্টে বুঝতে পারলাম ছোটদের নিয়েই লিখা। পড়তে বসে গেলাম সাথে সাথে। সাহারা মরুভূমিতে বিমান দুর্ঘটনার ফলে লেখক দিনাতিপাত করছিলেন। “আমায় একটা ভেড়া এঁকে দাও!” হঠাৎ এমন এক প্রশ্ন শুনে ভুত দেখার মতোই চমকে উঠলেন। উল্লেখ্য, লেখক তখন যেকোনো জনপদ থেকে প্রায় হাজারখানেক মাইল দূরে, তার বিকল হয়ে যাওয়া বিমানের মেরামত করছিলেন। কিন্তু ছোট্ট রাজকুমারের জোরাজুরিতে অগত্যা তাকে একটি ভেড়া এঁকে দিতে হলো। এভাবেই ছোট্ট রাজকুমারের সাথে লেখকের প্রথম সাক্ষাৎ হয়।

- বড়রা কখনোই তোমাদের নতুন বন্ধুর কথা শুনতে গিয়ে আসল ব্যাপারের খোঁজ নেয়না। বড়রা শুধু নম্বরের খোঁজ করে। তারা কখনো জিজ্ঞেস করেনা , “আচ্ছা, বলো তো ওর গলার আওয়াজটা কীরকম? ওর প্রিয় খেলাগুলো কী? ও কী প্রজাপতি সংগ্রহ করে?না, তার বদলে জিজ্ঞেস করে, “ওর বয়স কত? কটি ভাই আছে? ওর ওজন কত? ওর বাবার রোজগার কীরকম?–এসবের পরেই তাদের মনে হয় তারা বন্ধুটিকে চিনতে পেরেছে!
- যদি তুমি বড়দের বল যে আমি গোলাপি ইট দিয়ে তৈরি একটা চমৎকার বাড়ি দেখলাম, বাড়ির জানালায় জিরানিয়াম আর ঘুঘু। বড়রা কিছুতেই বাড়িটাকে কল্পনাই করতে পারবে না। তোমাকে বলতেই হবে, “আমি একটা বাড়ি দেখলাম, দাম এক লাখ ফ্রাঁ। বড়রা সঙ্গে সঙ্গে চেচিয়ে উঠবে, “ও কী সুন্দর বাড়ি!”
- মূল বইটি ফরাসি ভাষায় লেখা
- ১৯৪৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ২মিলিয়ন কপি ব্রিক্রি হয়
বইয়ের নাম: ছোট্ট রাজকুমার
লেখক: অঁতোয়ান দ্য স্যাঁৎ একজ্যুপেরি
অনুবাদক: হায়দার আলী খান
ধরণ: শিশু-কিশোর
প্রকাশন: প্রথমা প্রকাশন
প্রথম প্রকাশ: ২০১২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
মুদ্রিত মূল্য: ৩০০