কেন বইটির নাম টু হান্ড্রেড ডেইজ:
আমার জানামতে লেখকের নিয়মিত লেখার অভ্যাস করে তোলার জন্য নিজেই একটা টাস্ক নেন, আর নাম দেন টু হান্ড্রেড ডেইজ।এই চ্যালেঞ্জ এর দিনগুলোতেই তিনি নিয়মিত লিখতে থাকেন যে গল্পগুলোই এ বইয়ে প্রকাশিত হয়।
বইয়ের শুরুতে বলা আছে যে – ‘টু হান্ড্রেড ডেইজ ‘ এমন ই এক অব্যাখ্যেয় রহস্যের বই।
বইটিতে মোট ১০টি গল্প রয়েছে, যা শেষ হয়েও হইলো না শেষ।
কন্যা: বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।মানুষ যখন তার প্রিয় কাউকে হারিয়ে ফেলে, কিন্তু তাকে নিয়ে বাঁচার অপরিসীম আগ্রহ,তখন নিজের অজান্তেই চরিত্র সৃষ্টি করে নেয়।প্রকৃতপক্ষে যার অস্তিত্বই থাকে না। তবুও এই ভেবেই বাঁচে ” এই তো মানুষটা আমার আশে-পাশেই আছে।” কন্যাহীন পিতা আর পিতাহীন কন্যাকে এই গল্পটা খুব ভাবাবে,বাস্তবিক মিল খুঁজে পাবে নিজেদের মধ্যে।
আমগাছ: বাবা হারানো মানেই মাথার উপর বিশাল আকাশ নেই। তার উপর দারিদ্রতা ভর করলে সেটা যে কতটা বেদনাদায়ক, এই গল্প পড়লে খুব সহজেই অন্তরে দাগ কাটবে। বার বার ছোট ছেলেটার করুণ চাহনীই স্মৃতিতে ভেসে ওঠবে।
পরকীয়া: অন্যের সুখ দেখে হিংসা স্বভাবজাত প্রক্রিয়া হলেও নিজেকে নির্মমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার আগেই সুধরানো উচিত, নচেৎ পতন অপরিহার্য।যে জিনিসটা যত্নে রাখা উচিত অবহেলায় হারিয়া গেলে ফিরে পাওয়া অসম্ভব।
পুনঃজন্ম: দরিদ্র সন্তান কাজের ব্যস্ততায় পিতার অসুস্থায়ও সময় দিতে না পারার আক্ষেপটাই প্রকাশ পেয়েছে।গল্পটা পড়ে যেকোনো সন্তানই জড়তা উপেক্ষা করে পিতাকে সময় দেওয়ার মানসিকতা অর্জন করবে।
ব্যাকটেরিয়া মানব: আবিষ্কারের নেশায় মানুষ নিজের বিবেক বর্জন করেও উচুতে উঠতে যায়,যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এখানে লেখক ব্যাকটেরিয়া মানবের যে ভীবৎস বর্ণনা দিয়েছেন,গা শিউরে উঠে।
টিউটর: কিছু রহস্য থাকে ব্যাখ্যার অতীত।বড়লোকের মেয়েকে পড়াতে গিয়ে পছন্দ করে ফেলায় যুবকের করুণ পরিণতি।তার পিঠে ব্লেড দিয়ে কেটে শিলা নাম লেখাটা রহস্যই রয়ে গেলো।
কালো গোলাপ: পৃথিবীর আদিলগ্ন থেকেই যারা অভিযোজন করতে পেরেছে তারাই একমাত্র বেঁচে থাকে। গোলাপ গাছে একজন ডা. কৌতুহলবশত রক্ত ঢেলে দেখেন লাল গোলাপ কালো গোলাপে রূপান্তর হয়। কিন্তু একসময় রক্তের অভাবে গাছটি মানুষ থেকে রক্ত শোষণ করার ক্ষমতা লাভ করে,যার রোমহর্ষক বর্ণনাই রয়েছে গল্পটিতে।
সব মিলিয়ে গল্পে গল্পে রহস্য বিরাজমান।
বইয়ের নাম: টু হান্ড্রেড ডেইজ
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: ছোটগল্প
প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন