Home নির্বাচিত রিভিউ পদ্মা সেতু মহাকর্মযজ্ঞ নিয়ে প্রথম বই

পদ্মা সেতু মহাকর্মযজ্ঞ নিয়ে প্রথম বই

0
পদ্মা সেতু মহাকর্মযজ্ঞ নিয়ে প্রথম বই

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীতে কোন সেতু নিয়ে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি সংবাদ প্রচার করেছে? সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরটি নিশ্চয়ই – পদ্মা সেতু।

এই সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারদলীয় একজন মন্ত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ঋণপ্রদানের চুক্তি প্রত্যাহার করার পরেও নিজ অর্থায়নে এরকম মহাকর্মযজ্ঞ বাংলাদেশে এটিই প্রথম। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সাথে যুক্ত হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, তৈরি হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব, গ্যাস ও রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে বরিশাল বিভাগ, মংলা ও পায়রা বন্দরের সাথে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দুয়ার এরকম অনেকগুলো ব্রেকথ্রু নিয়ে আসা সেতু নিয়ে মানুষের আবেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। এনায়েত চৌধুরীর “পদ্মা সেতু” বইটি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পদ্মা সেতু প্রকল্পের ধারাবাহিক এবং কারিগরি বিশ্লেষণমূলক প্রথম বই।

মোঃ এনায়েত চৌধুরী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এর একজন প্রভাষক। পদ্মা সেতুর নদী শাসন বিষয়ে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্র আছে। এছাড়া সমসাময়িক বিষয়ে ভিন্নধর্মী হিউমারসম্পন্ন সহজ সরল উপস্থাপনায় ইউটিউব ভিডিও তৈরির কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন পরিচিত মানুষ এনায়েত চৌধুরী। পদ্মা সেতু বইয়ে তার লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ।

পদ্মা নদীর অপর নাম কীর্তিনাশা। পদ্মার ভাঙন ও  মাটি ক্ষয়ের প্রবণতা এতো বেশি যে এটি ২১তলা দালানের সমান গভীর পর্যন্ত মাটি ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। এছাড়া পদ্মার গতিপথ পরিবর্তনের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। পদ্মা নদী দিয়ে ৭৯ সেকেন্ডে যতটুকু পানি প্রবাহিত হয় তা দিয়ে ঢাকা শহরের একদিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এমন নদীতে সেতু নির্মাণ যে সহজ কাজ না এবং প্রকৌশলবিদ্যার জন্য পদ্মা সেতু যে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র তা বলাবাহুল্য। পদ্মার মাটি ক্ষয়ের কথা হিসেব করে সেতুর প্রতিটি পাইলের গভীরতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৮ মিটার যা একটি ৪২ তলা দালানের সমান।

পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছিলো ১৯৯৮ সালে। স্থান নির্ধারণ, পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ, জমি অধিগ্রহণ, প্রকল্পের কারণে স্থানান্তরিত মানুষের পুনর্বাসন একটি ধারাবাহিক এবং দীর্ঘসময়ের পরিকল্পনার কাজ। এই প্রকল্পের ১৯৯৮ সালের সেই শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত ধারাবাইক ইতিবৃত্ত এবং নকশা তৈরি, পাইলিং, সেতুর ধরণ নির্ধারণ, মাটি পরীক্ষা, নদী শাসনের উপযুক্ত পদ্ধতির সহজ ভাষায় কারিগরি বিশ্লেষণের চমৎকার বর্ণনা এনায়েত চৌধুরীর পদ্মা সেতু বই।

লেখক বইয়ের শুরুতে পৃথীবিতে সেতু তৈরির প্রারম্ভিক ধারণা, বিভিন্ন রকম সেতুর বর্ণনা এবং বাংলাদেশের সেতু নির্মাণ বিষয়ক সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ননা করেছেন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে পদ্মা নদীর বিশেষত্ব ব্যাখ্যা করে পরবর্তী নয়টি অধ্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রাক সম্ভাব্যতা, পরিবেশের প্রভাব, সেতুর অবস্থান নির্ধারণ, নির্ধারিত স্থানের মাটির অবস্থা, পাইলিং, অবকাঠামো নির্মাণ, সেতুর উপরিকাঠামো তৈরি, নদী ব্যবস্থাপনা, সেতু সংযোগকারী সড়ক নির্মাণ বিষয়ক বিশ্লেষণী আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। দ্বাদশ অধ্যায়ে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব এবং এটি নির্মাণের ফলাফল উল্লেখ করেছেন। এই বইয়ের ইনডেক্স, রেফারেন্স ও শব্দসংক্ষেপ নামে তিনটি সংক্ষিপ্ত অধ্যায় বইটিকে আরো বেশি সহজ ব্যবহারযোগ্য (easy accessible) করেছে। বইয়ের কনসেপ্ট বোঝানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিত্র সংযুক্ত করা আছে যা সাদাকালো হলেও বেশ স্পষ্ট।

পদ্মা সেতু মেগাপ্রকল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে সহজবোধ্য, আকারে ছোটো, সরল উপস্থাপনায় লিখিত  মোঃ এনায়েত চৌধুরীর বই “পদ্মা সেতু” সকলের পাঠের জন্য সুপারিশযোগ্য।

বইয়ের নাম: পদ্মা সেতু
লেখক: মোঃ এনায়েত চৌধুরী
ধরণ: নন ফিকশন
প্রকাশন: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড
প্রচ্ছদ: ইউসুফ আলী নোটন
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
মুদ্রিত মূল্য: ১৮০

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here