বইটি একটি সাইকোলজিকাল থ্রিলার এর মতো। বইটির লেখক এস জে ওয়াটশন। বইটির কাহিনীতে তেমন দ্রুততা লক্ষ করিনি, তবে বইটি ধীরে চললেও বইটি পাঠকের মনে এক ধরনের আগ্রহ তেরি করে রাখে, যেই জিনিসটা আমার কাছে মজার ছিল। বইটি হাতে নেওয়ার সাথে সাথে যে জিনিসটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাঠকের চোখ কাড়ে সেটি হলো বইয়ের নাম। বেশিরভাগ সময় বইয়ের নামের সাথে বইয়ের কভারের একটা সম্পর্ক থাকে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি, কারণ বইটির নামের পিছনে রহস্য কি, তা বই না পর্যন্ত জানা যায় না। এই বইতে চরিত্রের সংখ্যাও তেমন বেশি না, মূল চরিত্র মাত্র তিন জন। যারা হলেন, ক্রিস্টিন লুকাস, বেন আর ডক্টর ন্যাশ। এখানে লোকেশনেরও তেমন বৈচিত্র নেই, তাই এখান থেকে বোঝা যায়, এটি ধীরে-সুস্থে আরাম করে পড়ার মতো একটা বই।
তবে, এবার কাহিনিতে আসা যাক। মূল চরিত্র ক্রিস্টিন লুকাস, একজন আ্যমনেসিয়াক। এক দুর্ঘটনায় তার এই সমস্যা হয়। কিন্তু সমস্যাকে আমরা যতোটা সহজভাবে নিচ্ছি আসলে তা না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আ্যমনেসিয়ার রোগীরা যদি বড় রকমের আঘাত পেয়ে থাকে, তাহলে তারা এক-দুই মিনিটের বেশি কিছুই মনে রাখতে পারে না। তাদের কাছে প্রতি মুহূর্ত হয় ভয়ংকর কারণ তারা কই আছে, কেন আছে, তারাই বা কি; তারা তা জানতে পারে না, মনে রাখতে পারে না।
আরেক ধরনের রোগী আছে যারা তাদের জীবনের একটা অংশ ভুলে যায়, কিন্তু পরবর্তী জীবনে স্বাভাবিকভাবেই কাটাতে পারে। এই ভুলে যাওয়া হতে পারে, কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর। এখন এই জায়গাটায় আমাদের ব্রেইন কিভাবে স্মৃতি স্টোর করে সেটা জানা দরকার। আমাদের মেমরি দুই ধরনের, শর্ট টার্ম আর লং টার্ম। শর্ট টার্ম মেমরিতে কোনো কিছু সাময়িক কাল, এক কি দুই মিনিটের জন্য স্টোর হয়, পরে তা শিফট হয় লং টার্ম মেমরিতে, যেটা আমরা বেশি সময় ধরে মনে রাখতে পারি।
প্রথমে যে শ্রেণির রোগীর কথা বললাম, তারা শর্ট থেকে লং এ মেমরি ট্রান্সফার করতে না পারায় এক-দুই মিনিট পরে আবার সবকিছু ভুলে যায়। আর পরে যে কেইস এর কথা বললাম, তাদের লং টার্মের একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তারা তাদের জীবনের একটা অংশ ভুলে যায়। কিন্তু তাতে তাদের বর্তমান স্মৃতি শক্তির কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু লুকাসের কেইসটা অন্য রকমের।
ক্রিস্টিন লুকাসের এক এক্সিডেন্টে তার স্মৃতিশক্তি একটা সমস্যা হয়। সে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর নিজেকে ২০ বছরের একটি তরুণী হিসেবে আবিষ্কার করে, তার ২০ বছরের পর কিছু মনে থাকে না। ব্যাপারটা এমনিতেই অনেক অদ্ভুত। কিন্তু ব্যাপারটা আরও অদ্ভুত হয়ে যায়, যখন বলা হয় ক্রিস্টিনের বয়স ৪৭ বছর। তার মানে, প্রতিবার সে নিজেকে ঘুম থেকে উঠে নতুনভাবে আবিষ্কার করে।
এখানের কাহিনিতে আরেকটা ক্যারেক্টারে আমদানি হয়, যার নাম হলো বেন। বেন নিজেকে তার হাজবেন্ড হিসেবে পরিচয় দেয়। বেনের ভাষ্যমতে ২০ বছর আগে ক্রিস্টিনের একটা গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে এই রোগ হয়। এইসময় ক্রিস্টিনের সাথে পরিচয় হয় ডক্টর ন্যাশের সাথে। তিনি ক্রিস্টিনকে জানান যে তার স্মৃতি শর্ট টার্ম থেকে লং টার্ম মেমরিতে ঠিকই যাচ্ছে কিন্তু কোনো এক কারণে গভীর ঘুমের সময় তার এই স্মৃতি মুছে যাচ্ছে। তিনি তাকে একটা ডায়রি লেখতে বললেন, যাতে তার ব্রেনের চর্চা হয়, আর তাতে তার মনে রাখতে সুবিধা হচ্ছে কিনা তাও পরীক্ষা করতে চান। তিনি প্রতিদিন ক্রিস্টিনকে ফোন করে ডায়রির কথা মনে করে দেন আর বেনকে ডায়রির কথা জানাতে নিষেধ করে।
এখান থেকে ক্রিস্টিনের ডায়রি শুরু হয়। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, আসলেই কি ক্রিস্টিনের গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল? এই বেনই বা কে আর এই ডক্টর ন্যাশই বা কে? এরা কি তাকে সত্যি সাহায্য করছে নাকি অন্য কিছু? বইয়ের শেষের দিকের ঘটনাগুলো আপনাকে বইয়ের সাথে লেগে রাখবে।
এখন, বইটি আমার কেমন লেগেছে? আমি বলব নিঃসন্দেহে পড়বার মতো বই। বইটি পড়ার সময় আমি নিজেকে সম্পূর্ণ অন্য এঙ্গেল থেকে দেখতে পেয়ছিলাম, যেটা আমার কাছে ভালো লেগেছে।
বইয়ের নাম: বিফোর আই গো টু স্লিপ
লেখক: এস জে ওয়াটশন
ধরণ: Psychogical
প্রকাশন: Doubleday