কাহিনি সংক্ষেপণ: দেশের প্রভাবশালী এক শিল্পপতির মেয়ের উপর পরে এক অশুভ ছায়া। যার কারণে তাদের জীবনে ঘটে যায় বহু বিভৎস ঘটনা। আর তখনই ডাক পরে অতীত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক স্কুল শিক্ষক এর। কিন্তু সে একা যখন ঘটনার কোনো কুল-কিনারা করতে পারছিল না তখন তার দরকার ছিল একজন ক্ষমতাবান ম্যাজিশিয়ান এর। তারা দু জন মিলে শুরু করে রহস্য উদঘাটনের কাজ। তারা কি আদৌ পরবে এই রহস্য এর সমাধান করতে? জানতে পারবে কি এই ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা অপ্রিয় সত্য? যেই সত্য বদলে দিতে পারে গোটা মানবজাতিকে। জানতে হলে ডুব দিতে হবে অক্টারিন এর জগতে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: হরর গল্পের প্রতি অনেক আগে থেকেই আমার আর্কষণ। সেই আর্কষণ থেকেই পড়া অক্টারিন। উপন্যাসটির মোট ১৭টি অধ্যায়, প্রতিটি অধ্যায় পড়ার জন্য লেখক নির্দিষ্ট কিছু সময় নির্ধারণ করেছেন কারন লেখকের মতে এই সময়গুলোতে উপন্যাসটি পড়লে পাঠক বেশি উপভোগ করতে পারবে।
এইখনে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ২টি অধ্যায়। একটি হলো অধ্যায় ৬ “অপ্রয়োজনীয় জিনিসপাতি” আরেকটি হলো অধ্যায় ১০ “কীটপতঙ্গের পদধ্বনি”। সবগুলো অধ্যায়ই ভয়ংকর তবে এই ২টা অধ্যায় পড়ার পর আসলেই খুব ভয় পেয়েছিলাম। বই পড়েও যে এত ভয় পাওয়া যায় এটা অক্টারিন না পরলে বুঝতাম না।
এই বই এর আরেকটা ভালো লাগার বিষয় হলো চরিত্রগুলো। প্রত্যেকটা চরিত্র এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেন মনে হবে প্রতিটা চরিত্র আপনি চোখের সামনেই দেখছেন, প্রত্যেকটা ঘটনার বাস্তব প্রতক্ষদর্শী আপনি। তবে একটি চরিত্রর কথা না বললেই নয়, চরিত্রটি হচ্ছে অ্যানিমা। অ্যানিমাকে একজন ম্যাজিশিয়ান এর চরিত্রে দেখানো হয়েছে, যেই চরিত্রের সাথে পুরোপুরিভাবে মানিয়ে গেছে সে। প্রতিটা পরিস্থিতিতে খুবই বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলা করেছে তবে এইখানে মুমিন এর ও অবদান কম নয়।
এখন আসি এন্ডিং-এ। উপন্যাস এর শেষে এমন একটা টুইস্ট থাকবে সেইটা চিন্তাই করতে পারিনি। সেটা পাঠক উপন্যাসটি পড়লেই বুঝতে পারবে। প্রত্যেকটা অধ্যায়ই অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা যেটা পড়ার সময় আমি কাহিনির সাথে কানেক্ট করতে পেরেছি। এই উপন্যাসটি পড়ার সময় এমন অনেক তথ্য পেয়েছি যার সম্পর্কে আমার আগে কোন ধারণাই ছিল না। সব মিলিয়ে আমার কাছে দারুণ লেগেছে, এক কথায় অসাধারণ।
প্রোডাকশন কোয়ালিটি: বাতিঘর এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। বাতিঘর সবসময়ই বেস্ট কোয়ালিটির বই প্রোভাইড করে থাকে। তাই বইগুলো হাতে নিলেই বুঝা যায় এইগুলো প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বই।
অপছন্দের জায়গাগুলো:
১. আয়তুল কুরছি বইটিতে ভুলভাবে লেখা হয়েছ যেইটা খুবই খারাপ লেগেছে আমার।
২. আমার মনে হয়েছে বইটিতে ৫০/৬০ পৃষ্ঠা কম হলে ভাল হত। কারন কিছু জায়গা আসলেই এত ব্যাখ্যা করার দরকার ছিলো না।
৩. কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ কিছু বানান ভুল ছিলো যেটা খুবই বিরক্তিকর লেগেছে। বাতিঘর প্রকাশনীর উচিত আরো ভালো প্রুফ রিডার রাখা।
বইয়ের নাম: অক্টারিন
লেখক: তানজীম রহমান
ধরণ: থ্রিলার
প্রকাশন: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: ডিলান
প্রথম প্রকাশ: ২০১৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৪
মুদ্রিত মূল্য: ৩৮০