ডা. রাজীব হোসাইন সরকার ভাইয়ার লেখা ❝বৃত্তবন্দি❞ বইটি মূলত সায়েন্স অব ডিডাকশনের পাশাপাশি দুর্গম রহস্যেঘেরা ৬টি গল্পের সমাহারে তৈরি। প্রতিটি গল্পে শার্লকিয় স্টাইলে রহস্যময় কেইস সলভ করেছেন সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রফেসর নাজিব।
প্রথম গল্পে ইরা নামের এক মধ্যবয়সী তরুণীকে আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে উদ্ধার করেন প্র. নাজিব। সাজ্জাদ নামের এক তরুণের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে ডিপ্রেশনের চরম লেভেলে চলে যায় ইরা। এটি তার মনে থ্রে-শোল্ডে ধাক্কা দেয়। তখন সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ইরার অস্বাভাবিক ভাবভঙ্গি লক্ষ্য করে প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন তৈরি করে, তার যুক্তিসম্মত উত্তর খুঁজে ইরার সমস্যা শনাক্ত করেন প্র. নাজিব। এরপর সাইকোলজিক্যালি ইরার মস্তিষ্ককে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে পুনরায় সুস্থ মস্তিষ্কে ফিরিয়ে আনেন তিনি।
২য় গল্পটি খুবই ইন্ট্রেস্টিং। তনু নামের স্বামীর ভালোবাসাবঞ্চিত এক নারী খুবই পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে তিলে তিলে মৃত্যুর কবলে ঠেলে দিতে থাকে। কিন্তু স্বামীকে মৃত্যুপথযাত্রী করতেও তার বিবেকে নাড়া দিচ্ছে। তাই সে প্র. নাজিবের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং ক্রমাগত ভুল তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিশেষে রহস্যের জাল কেটে এ বাঘবন্দি খেলায় প্রফেসরই জয়ী হন।
ব্যক্তিগতভাবে ৩য় গল্পটি (মেয়েটির নাম ছিল না) আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে। একেবারেই ধোঁয়াশা রহস্যে ঘেরা এ গল্পটি। প্রচুর সত্য-মিথ্যা তথ্যের জাল কেটে রহস্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে কালো ঘাম ছুটে যায় প্র. নাজিবের।
৪র্থ গল্পে ইরাবতী নামের জনৈক তরুণী তার পারিপার্শ্ব থেকে নেয়া বিভিন্ন তথ্যের সমন্বয়ে কমল নামের এক কাল্পনিক চরিত্র আবিষ্কার করে। মৃত কমলকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে ইরা। কিন্তু প্র. নাজিবের কাছে এ সমস্যা সমাধানহীন নয়। লজিকের পর লজিক দাঁড় করিয়ে তিনি ঠিকই এ রহস্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান।
পরবর্তী গল্পটি আমার মনে করুণার সৃষ্টি করে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ কতটাই না তুচ্ছ কারণে আরেকজনকে হত্যা করে হায়! এ গল্পের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হলো অপরাধীর চোখের পিউপিলের দিকে তাকিয়ে র্যান্ডম প্রশ্ন করে সেকেন্ডের মধ্যেই তার অপরাধকে শনাক্ত করা। পরিশেষে হত্যার সেই তুচ্ছ কারণটিও খুঁজে বের করেন প্র. নাজিব।
শেষ গল্পটি বইয়ের নামেই নামাঙ্কিত। এক সিরিয়াল কিলার খুবই সূক্ষ্মভাবে একসাথে ১২টি খুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু পর্যবেক্ষণের পর প্র. নাজিব ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধরে ফেলেন। সিরিয়াল কিলার নিজেকে প্রকাশ করার নিমিত্তে একটি সূত্র দিয়ে যান। সূত্রটির মাধ্যমে তার ফোন নম্বর খুঁজে বের করা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। প্রফেসর নাজিবই শেষ পর্যন্ত এ রহস্যের ইতি টানেন।
বৃত্তবন্দি একঝাঁক রহস্য এবং বীভৎস গল্পের সমাহার। ব্যক্তিগতভাবে ২য়, ৩য়, ৫ম ও শেষ গল্পটি খুবই ভালো লেগেছে। পরিশেষে, মার্ডার মিস্ট্রি কিংবা সায়েন্স অব ডিডাকশন-প্রেমীদের ‘বৃত্তবন্দি’তে স্বাগত জানাই।
বইয়ের নাম: বৃত্তবন্দি
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: সায়েন্স অব ডিডাকশন
প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন
প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
প্রথম প্রকাশ: অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮
মুদ্রিত মূল্য: ৩৪০