প্যাসেজ টু হেভেন একটি সমাজ-রাজনৈতিক স্যাটায়ার উপন্যাস। এখানে ব্যঙ্গ আছে তবে তা নিখাদ আনন্দের জন্য নয় বরং তা রাজনৈতিক নৈরাজ্য, সামাজিক অসংগতি প্রকাশের মাধ্যম। লেখক সমসাময়িক ঘটন-প্রতিঘটনের পার্থিব প্লট থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছেন এবং তার উত্তম ব্যবহার করে মুন্সিয়ানার সাথে অপার্থিব প্লট বুনেছেন। বর্তমানের ট্রেন্ডিং ইস্যুবহুল উত্তরাধুনিক সময়পটের একটি ভিন্ন ন্যারেটিভ প্যাসেজ টু হেভেন। ভালোবাসা, ঘৃণা, শিল্প, বিশ্ব সাহিত্য এবং রাজনৈতিক উত্থানপতনে উঁচুতলা নিচুতলার নাগরিকের প্রতিক্রিয়া, মিডিয়া, সিভিল সোসাইটির কার্যকালাপের বাস্তবিক চিত্র এই উপন্যাস।
চরিত্রায়নে অতিপরিচিত ব্যক্তিদেরকে বেছে নিয়ে লেখক ফিকশনকে বাস্তবতার মুখোমুখি করাতে সক্ষম হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে চে গুয়েভারা, মওলানা ভাসানী, গান্ধীজি, জিন্নাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদ, খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান, মেরিলিন মনরো , হিটলার, মাহমুদুর রহমান মান্না, সত্যজিত রায়, সৈয়দ মুজতবা আলী, মাইকেল জ্যাকসন, প্রেমিক দেবদাস, পার্বতি, লাইলি, মজনু, রোমিও, জুলিয়েট, সুচিত্রা, উত্তম কুমার, শেক্সপিয়ার! কে নেই! লেখক বিখ্যাত ও আলোচিত এইসকল ব্যাক্তিবর্গের স্বর্গীয় জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা, ব্যস্ততা, কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পৃথিবীতে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে তাদের উদ্বিগ্নতা ও বিশ্লেষণী মনোভাব ব্যক্ত করেন উপন্যাসটির পাতায় পাতায়। রাজনীতি সচেতন লেখকের কলমে প্যাসেজ টু হেভেনে দৃশ্যায়িত হয় বেহেশতের বুকে এক টুকরো ভারতবর্ষ।
জগতটা হেভেন অথচ আছে শান্তি নিকেতন,ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। আর উপলক্ষ্যগুলোও অতি পরিচিত যেমন পিনাক-৬ লঞ্চডুবি, জিহাদের পাইপে পরে যাওয়া এরকম ঘটনার কাঁধে ভর করে এগিয়ে যায় স্যাটায়ার উপন্যাস। লেখকের বর্ননায় ফুটে ওঠে বেহেশতের সাম্যবাদী, কাম্যবাদী দুই দলভিত্তিক রাজনীতির হালচাল। শরৎচন্দ্রের দেবদাসকে সামনে নিয়ে লেখক বর্ননা করেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। দেবুদা প্রেম ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন আবার নিজ স্বভাবগত সফট আন্দোলনে (!) ফিরে যান। এভাবেই শেষ হয় স্বল্পকথার এ উপন্যাস।
মাসকাওয়াথ আহসানের “প্যাসেজ টু হেভেন” যেন পরিচিত চরিত্রের লৌকিক গল্পের পরলৌকিক রূপায়ণ।
বইয়ের নাম: প্যাসেজ টু হেভেন
লেখক: মাসকাওয়াথ আহসান
ধরণ: উপন্যাস
প্রকাশন: উন্মোচন
প্রথম প্রকাশ: ২০১৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২
মুদ্রিত মূল্য: ২০০