Home ও অ্যাডভেঞ্চার: অনুবাদ ও ইংরেজি হাউন্ডেড : কেল্টিক মিথলজি

হাউন্ডেড : কেল্টিক মিথলজি

0
হাউন্ডেড : কেল্টিক মিথলজি

প্রারম্ভিকা

কেল্টিক মিথলজি হলো আইরিশ এবং ওয়েলসের বিভিন্ন প্রাচীন সংস্কৃতির গল্প এবং লোককাহিনীর সংগ্রহ। কেল্টিক মিথলজি নিয়ে লেখা কেভিন হার্নের (দি আইরন ড্রুইড ক্রনিকলস- ১) খুবই জনপ্রিয় একটি বই। আমেরিকার অ্যারিজোনা প্রদেশে জমে ওঠা এই গল্প আপনাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে কেল্টিক মিথলজির এক রোমাঞ্চকর জগতে। রহস্য-রোমাঞ্চ,মিথলজি,সুপারন্যাচারাল ইলিমেন্ট,ম্যাজিক,ভ্যাম্পায়ার,ডাইনি এবং চমকপ্রদ ইলাস্ট্রেশনে সাজানো কোন মিথলজি বই পড়তে চাইলে বইটি আপনার ডেস্কে করে নিতে পারে অনায়াসে অবস্থান।

চরিত্র পরিচিতি

হাউন্ডেড বইয়ের মূল চরিত্র অ্যাটিকাস ও’সালিভান একজন কেল্টিক ড্রুইড, যিনি আজকের দিনে ২১ বছর বয়সী একজন আইরিশ তরুণের মতোই দেখতে। তার রঙিন চুল ও শক্তপোক্ত শরীর তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে সকলের মাঝে। গ্রনউয়েল,এক সুন্দরী বারটেন্ডার এবং ওবেরন,অ্যাটিকাসের পোষা আইরিশ উলফহাউন্ড,যা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দ্য মরিগান,যুদ্ধ ও মৃত্যুর দেবী,কেল্টিক মিথোলজির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ফ্লিহডিশ, শিকারের দেবী,আধুনিক সাজপোশাকে উপস্থাপিত,যেন গ্রীক আর্টেমিস। এমিলি, একজন ডাইনি,খুবই চটপটে এবং আধুনিক।

হ্যাল হক এবং লেইফ হেলগারসন অ্যাটিকাসের আইন উপদেষ্টা। মিসেস ম্যাকডোনাহ,অ্যাটিকাসের বৃদ্ধ বন্ধু,আর অ্যাঙ্গাস ওগ,কেল্টিক মিথলজির প্রেমের দেবতা।

কাহিনী সংক্ষেপ

পুরোহিত অ্যাটিকাস ও’সালিভানের কথা মনে আছে,চরিত্র পরিচিতিতে যাকে পরিচয় করিয়ে দিলাম?
দেখতে একুশ বছর বয়সী সেই পুরোহিত অ্যাটিকাসের কাছে আছে একটি মূল্যবান বস্তু। কি সেই মূল্যবান বস্তু জানতে ইচ্ছে হচ্ছে না আপনাদের?

কেল্টিক প্রেমের দেবতা অ্যাঙ্গাস ওগ এই বস্তুটির প্রকৃত মালিক। এটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ—যা তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দান করবে।

অ্যাটিকাস বস্তুটি হারাতে চান না, কারণ এটি তার অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কেউ তার প্রাপ্য জিনিস কি কখনো হারাতে চায়?

ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নেমে আসে তীব্র সংঘর্ষের আভাস। অ্যাটিকাস এক ঝামেলামুক্ত জীবনযাপন করতে চান, কিন্তু অ্যাঙ্গাস ওগ তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চালাতে থাকেন। অ্যাটিকাসকে শুধু নিজের জন্য নয় বরং আইন ও শৃঙ্খলা স্বার্থেও লড়ে যেতে হবে।

গল্পের উপমোড়ে নতুন চরিত্র যুক্ত হয়ে কাহিনীতে এনে দিয়েছে ব্যপ্তির ছোঁয়া। ষড়যন্ত্র এবং পাল্টা হামলার এই খেলাতে শেষ জয়ের হাসিটা কে হাসবে?

অ্যাটিকাস কি পারবে এই বিপদ থেকে সমূলে মুক্তি পেতে?

এই বিপদের বাইরেও ধেঁয়ে আসছে আরও ষড়যন্ত্রের গন্ধ।

অ্যাটিকাসের বয়স কি আসলেই একুশ নাকি তার ভিতরেও লুকিয়ে আছে কোন ভ’য়’ঙ্ক’র সত্যি?

মিথলজি,ডাইনি,ম্যাজিক,ভ্যাম্পায়ারসহ আরও আকর্ষণীয় ইলিমেন্ট যখন একের পর এক উন্মোচিত হবে পাঠকের চোখে তখন তারা আরবান ফ্যান্টাসি এই বইটির মোহে জড়িয়ে পড়বে। জানতে হলে বইটির শেষ পরিণতি পড়তে হবে আপনাকে বইটি এক নিঃশ্বাসে।

পাঠ প্রতিক্রিয়া

(ক) পজেটিভ দিক

প্রথম পয়েন্ট

অন্যান্য জনরার বইয়ের মতো আরবান ফ্যান্টাসির বইয়ের অনুবাদ যেই অর্থে পাঠকের কাছে পরিচিত হওয়া উচিত ছিলো সেই অর্থে পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে পারেনি। আরবান ফ্যান্টা‌সির অনুবাদ নিয়ে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই বইটিতে কেল্টিক মিথলজির পাশাপাশি আরবান ফ্যান্টা‌সি সম্পর্কে পাঠক সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে।

দ্বিতীয় পয়েন্ট

ঘটনার সন্নিবেশের আদলে বইটি টেনে পড়তে পারবে পাঠক। বইটি পড়ে আমার বোরিং অনুভূতি আসেনি। কেল্টিক মিথলজিকে সহজে বোধগম্য করার জন্য
বইতে অসংখ্য টীকা রয়েছে, যা বইটির কাহিনী পাঠকের মনে স্ফুরণ ঘটাতে ভূমিকা রাখবে। পাঠক এক বসাতেই বইটি সহজেই পড়ে ফেলতে পারবে।

তৃতীয় পয়েন্ট

রহস্য-রোমাঞ্চ,মিথলজি,সুপারন্যাচারাল ইলিমেন্ট,ম্যাজিক,ভ্যাম্পায়ার,ডাইনি এতো সব কিছু ইলিমেন্টের মিক্সারে পাঠকের অনুভূতি এক অদ্ভুত সেচুরেশন লেভেলে পৌঁছাবে। এক বইতে এতো কিছু একসাথে পাওয়া সত্যিই রোমাঞ্চকর ব্যাপার এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

চতুর্থ পয়েন্ট

অরিজিনাল ভার্সনের বই পড়ার মাঝে যে স্বস্তি আছে তা রুপান্তরে পাওয়া দুষ্কর এটা চিরায়ত সত্যি কথা হলেও,কিছু বইয়ের রুপান্তর মনে দাগ কেটে যায়। অয়ন ইসলাম নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে নতুন শব্দের প্রতিস্থাপন ঘটিয়ে এই অসাধারণ কাজটি করেছেন। উদাহরণ হিসেবে আয়স পুরোহিত(আইরন ড্রুইড),শোণিতশোষক (ভ্যাম্পায়ার),রূপান্তৃক (শেইপশিফটার)। নিজের সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে এইযে শব্দ চয়নের রীতি এটা জারি থাকুক। ভবিষ্যতে যারা অনুবাদক হিসেবে কাজ করতে আসবে তাদের জন্যও এটি হবে অণুপ্রেরণার অংশ।

(খ) নেগেটিভ দিক

প্রথম পয়েন্ট

শেষটা আরও ব্যপ্তি নিয়ে করলে বিষয়টা আরও জমে যেতে পারতো। বইতে এ্যান্টাগোনিস্ট এত শক্তিশালী হয়েও তার পরিণতিটা শোচনীয় ছিলো। ভিলেনের এতো সহজে পরাজয় উত্তেজনার পারদ দ্রুতই কমিয়ে দেয় পাঠকের।

দ্বিতীয় পয়েন্ট

চরিত্রায়ন বইতে আরও ভালো হতে পারতো। কিছু চরিত্র বইতে আরও বিল্ডআপ ডিমান্ড করেছিলো। সিরিজের প্রথম হিসেবে পাঠকের হৃদয়ে এই প্রশ্নটি জাগতে পারে।

বইটি কেন আপনি পড়বেন?

মিথলজিকে যারা ভালোবাসে নতুন নতুন মিথলজি নিয়ে জানার আগ্রহ তাদের হৃদয়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলবেই,একে দাবিয়ে রাখা সত্যিই সম্ভব না। রিভিউয়ের ইন্টারেস্টিং অংশ পড়ার পরে আশা করছি মিথলজি প্রেমিদের আগ্রহের পাহাড় ছুঁয়ে ফেলতে চাইছে বইটিকে। মিথলজি নিয়ে আমার জানার আগ্রহের পারদ অসীমে নিয়ে গেছেন এস.এম নিয়াজ মাওলা স্যার তার সাবলীল লেখার বৈচিত্র্যতায়। তাই মিথলজি নিয়ে কোন বই দেখলেই এখন বইটি পড়ার জন্য আগ্রহ বোধ করি আমি। কেল্টিক মিথলজি কি? এটা নিয়ে পাঠকের ভিতরে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে অলরেডি,যারা এই মিথলজি নিয়ে জানতে আগ্রহী তারা অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করে পড়তে পারেন অনায়াসে।

রুপান্তর,সম্পাদনা,প্রচ্ছদ ও বাঁধাই

অয়ন ইসলামের প্রথম রূপান্তর হলেও প্রথম কাজ হিসেবে অসাধারণ হয়েছে। অনুবাদের ভাষা বেশ সাবলীল ও শ্রুতিমধুর। বইটি সম্পাদনা করেছেন সালেহ আহমেদ মুবিন। বইটি পড়ার পরে সম্পাদনা নিয়ে আমার কোন দ্বিধা জাগেনি মনে। বইটির সম্পাদনার কাজটি বেশ ভালো হয়েছে। ঋদ্ধ প্রকাশের এই বইটির প্রোডাকশন পূর্বের কাজকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ ও বাঁধাই ছিলো মনমুগ্ধকর।

ব্যক্তিগত রেটিং

৪.৬/৫

লেখক পরিচিতি

কেভিন হার্ন একজন আমেরিকান-কানাডিয়ান ফ্যান্টাসি ঔপন্যাসিক যিনি মূলত অ্যারিজোনার বাসিন্দা। তিনি এখন অন্টারিওতে বসবাস করছেন। তিনি দ্য আয়রন ড্রুইড ক্রনিকলস, ইঙ্ক অ্যান্ড সিজিল সিরিজ এবং সেভেন কেনিংস সিরিজের নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলিং লেখক।

বই পরিচিতি

সম্পাদক: সালেহ আহমেদ মুবিন

বইয়ের নাম: হাউন্ডেড
লেখক: কেভিন হার্ন
অনুবাদক: অয়ন ইসলাম
ধরণ: ফ্যান্টাসি
প্রকাশন: ঋদ্ধ প্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫২
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here