Home ও অ্যাডভেঞ্চার: অনুবাদ ও ইংরেজি দ্য পারফেক্ট সান : সে সোশিওপ্যাথ নাকি সাইকোপ্যাথ?

দ্য পারফেক্ট সান : সে সোশিওপ্যাথ নাকি সাইকোপ্যাথ?

0
দ্য পারফেক্ট সান : সে সোশিওপ্যাথ নাকি সাইকোপ্যাথ?

প্রারম্ভিকা

বইয়ের নামকরণের মধ্য দিয়ে বই পড়ার আগেই প্রচ্ছদে বইয়ের নাম দেখে পাঠকের মনে একটি সন্তানের অবয়ব কল্পনায় ফুটে উঠবে এবং এটাও তার মাথায় থাকবে সে একটি পারফেক্ট বা আদর্শ সন্তানের গল্প পড়তে যাচ্ছে । আচ্ছা,একটি মানুষ সে যেই হোক না কেন তার মাঝে কী সব গুণ পারফেক্ট ভাবে থাকতে পারে? একজন মানুষ বাইরে যেমনটা সৎ ও ভালো বলে নিজেকে প্রদর্শিত করে তার ভিতরটা কী আসলেই ততটা স্বচ্ছ?
উত্তরটা নেগেটিভ আশার সম্ভাবনা শতকের কাছাকাছি হলেও এই বইয়ে পাঠক শুরু থেকেই একজন পারফেক্ট চরিত্রের ছেলে বা সন্তানকে কল্পনা করে পড়ার সূচনা করবে । ফ্যামিলি একটি শিশুর সামাজিকীকরণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে ।
যে যুগে আমরা বাস করছি সেখানে ফ্যামিলির সাথে আমাদের দূরত্ব দিন দিন গুণোত্তর হারে বাড়ছে । একজন আক্ষেপ করেই বলেছিলেন ‘বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ ! ‘
এই বইয়ে আদর্শ ফ্যামিলির যে রুপরেখা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা পড়ে পাঠক নিজের ফ্যামিলির সাথে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের একটি কাল্পনিক রেখা অবশ্যই টানতে বাধ্য হবে ।
রহস্যের জমাট ধাঁধা আসে তখনই যখন,অলিভিয়া মার্সার নামে তার ক্লাসমেট মেয়েটির সাথে সর্বশেষ দেখা করেছিলো লিয়াম,আর সেই রাতেই মেয়েটি নিঁখোজ হলো ।

কে কিডনাপ করলো মেয়েটিকে?

সেই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমার লেখাটা এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে হবে ।

চরিত্র পরিচিতি

(১) লিয়াম ক্যাস
(২) এরিকা ক্যাস
(৩) জেসন
(৪) হ্যানা ক্যাস
(৫) অলিভিয়া মার্সার
(৬) টাইলার
(৭)মিস্টার গ্রেগর
(৮) অলিভিয়া রেনল্ডস
(৯) শ্যারন অ্যান্ডারসন
(১০) ম্যাডিসন
এবং আরও কিছু অপ্রকাশিত চরিত্র ।

কাহিনী সংক্ষেপ

শুরুতেই একটি পরিপাটি ফ্যামিলির গল্প দেখানো হয়েছে,যেখা‌নে বাবা, মা ও বোনকে নিয়ে নির্ভেজাল জীবন কাটাচ্ছে লিয়াম ক্যাস । ষোলো বছর বয়সী লিয়াম ক্যাস সুদর্শন যুবক, সে মেধাবী এবং সুবক্তা। সে কিছুটা ইন্ট্রোভার্ট হলেও তার কিছু বন্ধুও ছিলো, যাদের সাথে সে মিশতো । তার মায়ের নাম এরিকা ক্যাস যিনি একজন গৃহিণী হয়েও একটি স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন । তার বাবার নাম জেসন যিনি কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন এবং তার বোনের নাম হ্যানা যে লিয়ামের দু’বছরের ছোটো ।
উপন্যাসে এরিকা ও জেসনের সম্পর্কের গভীরতা যেমন স্পষ্ট ঠিক তেমনি ভাবে লিয়াম ও হ্যানার মাঝেও ভাই বোনের সম্পর্কটা অনেক মজবুত । ফ্যামিলি মানেই সম্পর্কের গল্প যা এই বইতে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে । তাদের নিজের বাড়ি, গাড়ি এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা থাকার পাশাপাশি তারা হলিডেতে ঘুরতে যায় যা একটি সুখী ফ্যামিলির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে ।
এরিকা ক্যাস তার ছেলেকে বেশি ভালোবাসে এটা তার মেয়ে হ্যানা দাবী করে,রহস্যের শুরু হয় তখনই যখন দেখা যায় এরিকা তার ছেলে লিয়ামকে নিয়ে খুবই চিন্তিত থাকে । লিয়ামের প্রতিটা পদচিহ্ন তিনি যেন পর্যালোচনা করেন কিন্তু কেন? একজন আদর্শ সন্তান বলে পরিচিতি পাওয়া ছেলেটার ভিতরে কী এমন রহস্যের বীজ লুকিয়ে আছে, যা তার মা কে স্বস্তি দেয় না।
ছেলের প্রতি মায়ের এই যে এতো টান এতো আদিখ্যেতা তা কি হ্যানার প্রতি বিকর্ষণ নাকি ছেলে ভয়ানক কিছু করে ফেলতে পারে সেই ভয়!

লিয়াম কী ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকা ভয়ানক কোন যুবক?

লিওনেল শ্রীভারের ‘ We need to talk about Kevin ‘ বইটি পড়ে থাকলে আপনি কেভিনের চরিত্রের সাথে এই বইয়ের লিয়ামের সাদৃ‌শ্য কিছুটা হলেও খুঁজে পাবেন ।

লিয়ামকে কেন্দ্র করে তৈরি সেই ভয়কে পায়ে মাড়িয়ে গল্পে এসেছে প্রেমের সুবাতাস । এসেছে অলিভিয়া মার্সার নামের মিস্টি একটি মেয়ে যে লিয়ামের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে । লিয়ামকে এক মুহূর্ত না দেখে থাকা যেন তার জন্য জীবন্ত মরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । লিয়াম একদিন অলিভিয়াকে তার ফ্রেন্ডরা সহ একসাথে ঘুরতে যাবার প্রস্তাব দিলে, অলিভিয়া যেন হাতে স্বর্গ পেয়ে যায় । সেই ঘুরতে যাওয়ার পরে একটি দৃশ্যে, লিয়াম যখন অলিভিয়াকে বলে একটা মিল্কশেক ভাগ করে খাবে দুজনে তখন অলিভিয়া যেন খুশিতে মরে যাচ্ছে, তার পেট পুরে খাওয়ার কোন লোভ নেই, সে চায় লিয়ামের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা, চায় লিয়ামকে নিজের সবটা দিয়ে উজাড় করে ভালোবাসতে । এই দৃশ্যগুলো যখন এসেছে তখন বারবার মনে হয়েছে এমন একজন গার্লফ্রেন্ড আমারও যদি থাকতো ! মনের ভিতরের পারদ স্পর্শ করার মতো অলিভিয়ার দৃশ্যগুলো উপন্যাসে পাঠক হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করবে, যা পাঠকের মনে প্রেম জাগাবে ।

লিয়ামের মা এরিকা যখন জানতে পারে লিয়াম অলিভিয়া নামের কারও সাথে মিশতে শুরু করেছে তখন সে ডিটেকটিভ রাখে, সেই ডিটেকটিভ যে এর আগেও লিয়ামের বিষয়ে তদন্ত করেছিলো ।

লিয়াম কে নিয়ে কী এমন ঝামেলা?

লিয়ামের সম্পর্কে জানার আগ্রহ পাঠকের মনে বারবার ব্ল্যাক উইডো মাকড়সার মতো রহস্যের জাল বুনতে থাকবে ।

গল্পে টার্নিং পয়েন্ট আসে তখনই যখন
অলিভিয়া মার্সার নামের মেয়েটির সাথে লিয়ামের প্রেমের সূচনালগ্নের প্রথম চুমু খাওয়ার সেই রাতেই,মেয়েটি নিঁখোজ হয়ে যায় ।

এজন্যই কী তার মা এতো ভয়ে থাকে তার লিয়ামকে নিয়ে?

বইটিতে পারফেক্ট সন্তান লিয়ামের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে কখনো সেটা অলিভিয়া মার্সারের দৃষ্টিতে, কখনো তার মায়ের দৃষ্টিতে এবং কিছু জায়গায় লিয়ামকে যারা চেনে ছোটবেলা থেকে তাদের দৃ‌ষ্টিতে ।

শেষ দৃশ্যপটে কী হবে?

জীবনানন্দ দাশের মতো বলতেই হয়,
‘সকল রৌদ্রের মতো ব্যপ্ত আশা যদি গোলকধাঁধায় ঘুরে আবার প্রথম স্থানে ফিরে আসে, শ্রীজ্ঞান কী তবে চেয়েছিল?’

এই সকল বিচ্ছিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে এই বইটি এক নিঃশ্বাসে ধৈর্য্য ধরে পড়ে ফেলতে হবে ।

পাঠ প্রতিক্রিয়া

(ক) পজেটিভ দিক

প্রথম পয়েন্ট :

আদর্শ একটি পরিবারের গল্প দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে বইয়ের প্রথম দিকে যা খুবই পজেটিভ ভাইব দেয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ফ্যামিলি আছে,তাদের সাথে আছে সম্পর্কের বাঁধন এবং থাকতেও পারে কিছু টানাপোড়েন । এই বইয়ে আদর্শ ফ্যামিলির যে রুপরেখা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা পড়ে পাঠক নিজের ফ্যামিলির সাথে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের একটি কাল্পনিক রেখা অবশ্যই টানতে বাধ্য হবে ।

দ্বিতীয় পয়েন্ট :

টিন এজের সময়কাল অর্থাৎ থার্টিন থেকে
নাইন্টিন এই সময়ে শারীরিক ও মানসিক যে পরিবর্তন স্পষ্ট হয় একটা ছেলে বা মেয়ের ভিতরে ও বাইরে তা লেখিকা বেশ সুন্দর ভাবে যথাযোগ্য অনুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন । মুড সুয়িং এর কারণে হোক বা অকারণে ওই বয়সে হ্যানার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, লিয়ামের কখনো গম্ভীর আচরণ বা কখনো প্রেমিকসুলভ আচরণ,অলিভিয়ার ভিতরে প্রেমের স্ফুরণ এবং ম্যাডিসনের তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পাঁচ মিনিটের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খাওয়া, টিন এজের একটা চমৎকার আবহ তৈরি করতে পেরেছে । তাই পাঠক পড়ার সময়ে তার টিন এজকে মিস করবে বা অনুভব করবে তার পুরোনো টিন এজের ফেলে আসা দুষ্টু মিষ্টি সেই স্মৃতিকে ।

তৃতীয় পয়েন্ট :

প্রেম অবিনশ্বর ও চিরন্তন, তা মানুষ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে না । উপন্যাসে অলিভিয়া তার ক্লাসমেট লিয়ামকে না দেখে ক্লাস করতে পারেনা । লিয়ামের জন্য তার মনের ভিতরে কত আয়োজন, কত ভালবাসার প্রজাপতি ডানা মেলে উঁড়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু লিয়াম কেন তা ধরছে না? এই যে একজনের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া মন থে‌কে, এটা তো তখনই আসে যখন বিশ্বাসের রেখা ভেদ করে যায় এক মন থে‌কে আরেক মনে । অলিভিয়ার মতো মেয়েকে পাওয়ার ইচ্ছা প্রত্যেকটি ছেলেরই থাকে, যে তাকে নিঃশ্বাসের মতো অনুভব করতে চাইবে ।
ক্লাসের পুরো চল্লিশ মিনিটই অলিভিয়া লিয়ামের দিকে তাকিয়ে থেকে ক্লাস পার করতে চায়, আহা! যেন রবী ঠাকুরের সেই বিখ্যাত গানের কথা মনে করিয়ে দেয়, ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাইনা! ‘ বইটি পড়তে পড়তে আমি অলিভিয়ার প্রেমে পড়ে গিয়েছি, আপনিও পড়বেন এটা নিশ্চিত ।

চতুর্থ পয়েন্ট :

একজন মায়ের কত দুশ্চিন্তা থাকে তার ছেলেকে নিয়ে তাইনা?
এই যেমন ধরুন, ইসকুলে থাকা অবস্থায় আমার মা কখনো চাইতো না আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলি । তার মনে এই ভয়টা ছিলো, খারাপ কোন মেয়ের প্রেমে পড়ে ছেলের জীবনটা টা যেন নষ্ট হয়ে না যায়! তার কাছে তার ছেলেই জগতের সবচেয়ে ভালো কেউ! যদিও মায়ের এই বিষয়টা আমি কীভাবে দেখেছি সেটা নাইবা বললাম! এই শাসন ও বারণ আমার মনে বিরক্তির কালো রেখা টেনে ধরলেও হয়তো কখনো প্রকাশ করতে পারিনি এবং এখনো আমি এটা বলতে পারিনা মা কে যে আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলি । এটা জানলে সে এই প্রশ্ন, সেই প্রশ্ন করে হয়তো মেজাজ খারাপ করে দিবে । এই বিষয়টিই যখন লিয়ামের মা এরিকা তার সাথে করেছিলো
তখন আমি নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছিলাম ।
মায়ের শাসন, বারণ যারা ফেস করে এসেছেন তারা এই দৃশ্যগুলো পড়ে আমার মতোই অনুভব করতে পারেন । লিয়াম কোন মেয়ের সাথে মিশে এটা সে বারবার লুকিয়ে যেতে চেয়েছে, এমনকি মিথ্যাও বলেছে তার মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে । তাই পাঠক বিষয়গুলো খুব সহজেই নিজের জীবনের সাথে রিলেট করতে পারবে ।

পঞ্চম পয়েন্ট :

রহস্যের পর্দা ভেদ করার আগ্রহ প্রতিটি মানব দেহের জিনেই কম বেশি আছে ।
রহস্যের গন্ধ পেলেই আমরা তা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেই রীতিমতো, এই উপন্যাসে লিয়ামের ভিতরে লুকিয়ে রাখা গোপণ রহস্য জানার জন্য আগ্রহ পাঠককে ধীরে ধীরে স্পুন ফিডিং করা হয়েছে । তাই রহস্যটা না জানা পর্যন্ত পাঠক স্বস্তি নিয়ে ঘুমাতে পারবে না । উপন্যাসটির সমাপ্তিটা পড়ে এটা অনায়াসে বলতে পারি যে, পাঠকের হৃদয়ে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে, উন্মাদনার চরম শিখরে থাকবে পাঠকের মন এবং দুর্দান্ত এক সমাপ্তিতে শেষ করবে এই উপন্যাসটি ।

ষষ্ঠ পয়েন্ট :

লিনিয়ার ভাবে স্লো বার্ন ট্রিটমেন্টে গল্পটি লেখা হয়েছে । তাই যারা নন লিনিয়ার ফরম্যাটের গল্প পড়তে এখন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না বা রিডিং ব্লকে আছেন, তারা অবশ্যই এই উপন্যাসটি পড়ে বই পড়ার ক্ষুধাটি মেটাতে পারেন ।

(খ) নেগেটিভ দিক

সম্ভাব্য প্রথম এবং শেষ পয়েন্ট

সম্ভাব্য বলছি কারণ ফার্স্ট পার্সন ন্যারেটিভে পুরো বইটি লেখিকা লিখেছেন । নতুন একটি চ্যাপ্টার শুরু হলেই পাশে অলিভিয়া বা এরিকা বা অন্য কোন কথকের নাম লেখা আছে,তাই যখন অলিভিয়া লেখা আছে তখন অলিভিয়ার দৃ‌ষ্টিতে চিত্রপটটি সাজানো হয়েছে বা তারই মনের কথা বলা হয়েছে । তাই যারা Third person omniscient ন্যারেটিভে লেখা পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাদের কাছে একটু অন্যরকম লাগতে পারে ।

বইটি কেন আপনি পড়বেন?

রহস্য! ডার্কনেস! টিন এজ! প্রেম! ফ্যামিলি ড্রামা! কী নেই এই বইতে?
বইটিতে লিয়ামকে ঘিরে রহস্যের আবহ তৈরি করা হয়েছে,যারা টুইস্ট পেতে পছন্দ করেন তাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই বছরের মাস্ট রীড হতে যাচ্ছে এই বইটি । ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেনের অনুবাদিত বইগুলো খুবই নিকট ভবিষ্যতেই বাংলাদেশে খুবই বড়ো একটি প্রভাব বিস্তার করতে যাচ্ছে এটা বলে দিতে পারি অনায়াসে ।

সম্পাদনা,প্রচ্ছদ এবং অনুবাদ

এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বইটির কথা আসলে বলতেই হয় অনবদ্য কাজটি করে দেখিয়েছেন তারা । বিদেশী ভাষার একটা গল্প, বাংলাদেশি পাঠক হিসেবে পড়েও বিদেশী ভাষার গল্প মনে না হওয়াটা সত্যিই প্রশংসনীয় । এজন্য ক্রেডিট অনুবাদক সাবাব আব্দুল্লাহ্ এবং সম্পাদক মহিউল ইসলাম মিঠু দুজনকেই সমান ভাবে দিবো । অনুবাদের ভাষা ছিলো যথোপযুক্ত, শব্দ চয়ন ও লেখনশৈলী ছিল মার্জিত । বাংলা থ্রিলার প্রেমী পাঠকদের কাছে লেখাটা সঠিকভাবে কাঙ্খিত সৌন্দর্য নিয়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশি ভার্সনে সাজিয়েছেন যেন প্রতিটি বাক্য । এটা কখনো মনে হয়নি যে লাইন টু লাইন আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়েছে এই বইতে । বই যে হারে প্রকাশ হয় এই দেশে, সে হিসেবে বর্তমানে পার্সেন্টেজটা কমই বলতে হয়,যেখানে বইয়ে বানান ভুল পাওয়া যায়না,আর ভুল বানান থাকলে বই পড়ার সময়ে চোখটা ওখানেই আগে যায় । বইটি পড়ে আমার চোখে তেমন কোন বানান ভুল ধরা পড়েনি । বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আশিয়ানীর স্রষ্টা জুলিয়ান, তার তৈরী প্রচ্ছদের আমি ফ্যান হয়ে গিয়েছি, এই প্রচ্ছদটিও বেশ ভালো ।

ব্যক্তিগত রেটিং

৪.৭/৫

লেখিকা পরিচিতি

ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেন একজন আমেরিকান লেখিকা যিনি মস্তিষ্কের ইনজুরির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক । তিনি একাধিক বেস্টসেলিং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং মেডিকেল হিউমার উপন্যাস লিখেছেন ।

বইয়ের নাম: দ্য পারফেক্ট সান
লেখক: ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেন
অনুবাদক: শাবাব আব্দুল্লাহ্
ধরণ: সাইকোলজিকাল থ্রিলার
প্রকাশন: ঋদ্ধ প্রকাশ
প্রচ্ছদ: জুলিয়ান
প্রথম প্রকাশ: ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬
মুদ্রিত মূল্য: ৫৫০

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here