উৎসর্গঃ
গাজীপুরের এক হুইলচেয়ারে বন্দি তরুণ খোকন। লেখকের মহানন্দের ব্যাপার হবে এই বই নিয়ে খোকনের সাথে দেখা করতে যাওয়া।
বইয়ের ধরণঃ
সাইকোলজি ও ডিডাকশন সমন্বয়ে লেখা একটি থ্রিলারধর্মি উপন্যাস। বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে একটি রহস্য সমাধানের কাহিনি বইটিতে বর্ণনা হয়েছে।
চরিত্রঃ
প্রধান চরিত্র দুইটি, সাইকিয়াট্রিস্ট সাবের সাহেব, যার শূন্য থেকে তথ্য উদ্ভাবনের নিজস্ব কৌশল রয়েছে এবং রহস্যময়ী মিতু নামক তরুণী। এছাড়া রয়েছেন কিংবদন্তি পর্যায়ের সাইকিয়াট্রিস্ট আলি জাফর। আরো রয়েছেন আজগর খান (মিতুর বাবা),কাজের লোক একামত মিয়া, ফুলির মা, মালি, ড্রাইভার সিরাজ উদ্দিন,ইলা, তনু।
কাহিনি সংক্ষেপঃ
রাতের ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন সাবের সাহেব (কথক)। পুরো কেবিন একা, জনশূন্য। শূন্য রহস্যময় একটা ব্যাপার। সংখ্যার আগে বসলে তা র্অথহীন, অথচ পেছনে বসলেই রহস্যময়। তেমনি কেবিনে হঠাৎ মিতু নামের এক তরুণী প্রবেশ করে এবং শুরু হয় রহস্যের। বিভিন্ন ডিডাকশন, প্রশ্ন ও সাইকোলজিক্যাল টার্মের মাধ্যমে উদ্ভাবন হয় রহস্যের কারণ। মিতুর বড় বোন ইলার হঠাৎ মৃত্যুর কারনে মিতুর বাবা স্ট্রোক করেন, কিন্তু মিতু সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। কিন্তু অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় সে মৃত বোনের, সাইকোলজিস্ট আলি জাফর এটিকে হ্যালুসিনেশন বলে চালিয়ে দিতেও চাইলেও কথক রহস্যের সমাধানে মিতুর বাড়িতে যান। সেখানে বিভিন্ন যুক্তি, সাইকোলজি, ডিডাকশন এর মাধ্যমে বের করে আনেন নির্মম সত্যর।
নিজস্ব অনুভূতিঃ
বইটি শেষ করে মনে হয়, এমন না হলেও পারতো। রহস্যের সমাধানে সেই নীরব ঘাতক এর মতো সমাজে এমন অনেক নিকৃষ্ট মানুষ রয়েছে,যাদের রহস্য ভেদ হয় না,সত্য লুকিয়ে থাকে,প্রকাশ হয় না।
এরকম থ্রিলার বই গুলো আমার প্রিয় হওয়ার কারণে এই বইটি অনেক ভালো লেগেছে। কাহিনির প্লটটি লেখক খুব সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। এই ধরনের বই এর প্রতি আগ্রহ থাকলে এটি এক বসায় শেষ করার মতো একটি বই,কিন্তু অনেক ইফেক্টিভ। লেখক একজন ডাক্তার এবং বায়োলজি নিয়ে কাজ করেন বলে বইটিতে অনেক বায়োলজিক্যাল টার্ম এসেছে। যা সবার ই জানা উচিত। যেমনঃচোখের বৃত্তাকার পেশি সংকোচন ও প্রসারণে পিউপিল ছোট ও বড় হয় ইত্যাদি।
সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার ও অনেক কিছু শিখা যায় এই বই থেকে।আফ্রিকান ক্যাট-ফাইবার ঘাস সম্পর্কে এই আমি প্রথম জানলাম।এরকম ছোট ছোট বিভিন্ন তথ্য শিখা যায় এই বই থেকে।
পছন্দের কিছু লাইনঃ
জ্ঞানের অহংকার খুবই সংবেদনশীল ব্যাপার।
নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকে ব্যক্তি অসৎ হওয়ার সাথে সাথে।
কিছু মানুষের চোখের দিকে না তাকানোই ভালো, সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে ভুল ধারণা চলে আসে।
বইয়ের নাম: চন্দ্রগ্রহণ
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশন: প্রিয়মুখ
প্রচ্ছদ: রহমান আজাদ
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০১৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা