“What Would You Do If You Weren’t Afraid?”
‘হু মুভড মাই চিজ’ স্পেন্সার জনসনের অত্যন্ত বিখ্যাত এবং অভাবনীয় তাৎপর্যপূর্ণ একটি গল্প। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন না এবং অবস্থার সামান্য পরিবর্তনেই হতাশ হয়ে পড়েন তাদের জন্য বইটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এ বই আপনাকে শেখাবে কিভাবে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।
লেখক পরিচিতি:
স্পেন্সার জনসন(1938-2017) পৃথিবীর বেস্ট সেলার লেখকদের অন্যতম। তিনি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে সাইকোলজিতে বিএ পাস করেন হার্ভাড মেডিকেল কলেজ ও মায়ো ক্লিনিক থেকে মেডিকেল ক্লার্কশিপ অর্জন করেন। তিনি বেস্ট সেলার বুক ‘ওয়ান মিনিট ম্যানেজার’-এর সহ লেখক।
শুরুর কথা:
রৌদ্র ঝলমল এক রবিবারে কয়েকজন সহপাঠী শিকাগো শহরে এসে মিলিত হয়। সেখানে নিজেদের জীবনের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা, সফলতা ও ব্যর্থতার কথা আলোচনা করতে করতেই ‘হু মুভড মাই চিজ’ গল্পটির প্রসঙ্গ উঠে। অতঃপর গল্পকথক মাইকেল গল্পটি বলা শুরু করে। এই গল্পে মূলত ‘চিজ’ বলতে বোঝায় আপনি জীবনে কি চাচ্ছেন, সেটা হতে পারে ভালো একটি ভালো চাকরি, ভালোবাসা, টাকা-পয়সা, সুস্বাস্থ্য কিংবা আপনার কাংখিত যেকোনো কিছুই। ‘মেইজ’ বলতে বোঝায় আপনি যা চাচ্ছেন তা, যেখানে খুঁজছেন হতে পারে সেখানে আপনি চাকরি করেন বা পরিবারে এবার সমাজে।
বই আলোচনা:
এ গল্পে মূলত চারটি চরিত্র। দুইটি ইঁদুর, যাদের নাম স্নিফ ও স্কারি এবং দুইটি লিলিপুট বা খর্বাকৃতি মানুষ, হেম ও হো। আশ্চর্য জনক হলেও সত্য, এ চারটি চরিত্রের মধ্যে গল্পের গভিরতায় আপনি আপনার নিজেকেও খুঁজে পেয়ে যেতে পারেন অর্থাৎ কোন একটি চরিত্র মিলে যেতে পারে আপনার প্রকৃতির সঙেও। প্রথমেই চরিত্রগুলোর সাথে পরিচিত হইয়ে নেয়া যাক,
স্নিফ- যে আগে থেকেই পরিবর্তন আন্দাজ করতে পারে।
স্কারি- যে দ্রুতই কাজে নেমে পড়ে।
হেম- যে তার অস্তিত্বই বিলুপ্তির মধ্যে ফেলে দেয় গোঁয়ার্তুমি এবং পরিবর্তনের সাথেমানিয়ে না নেয়ার কারনে।
হো- যে দেরিতে হলেও একটু হোঁচট খেয়ে পরিবর্তন বুঝতে পারে এবং কাজ শুরু করে দেয়।
গল্পে স্নিফ ও স্কারি এবং হেম ও হো একটি মেইজে দৌড়া-দৌড়া করে চিজ বা পনির খুঁজে বেড়ায়। একদিন তারা চিজ স্টেশন-সি তে পনির বা চিজের বিশাল ভান্ডার খুঁজে পায়। এরপর থেকে ইঁদুর ও লিলিপুটেরা প্রতিদিন সেখান থেকে চিজ আহরণ করতো। লিলিপুটেরা তাদের বাসা স্টশন-সি এর একদম কাছে নিয়ে আসে এবং তারা ভাবে এই চিজ কোনদিন শেষ হবে না তাই তারা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে থাকে। ফলপ্রসূতে তারা প্রচন্ড অলস হয়ে পড়ে। অন্যদিকে স্নিফ ও স্কারি আগের মতই কঠিন পরিশ্রম করতে থাকে, কষ্ট করে স্টেশন-সি তে পৌঁছে পনির আহরণ করতে থাকে এবং প্রতিদিন পনির পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। একদিন হঠাৎ স্টেশনের সব পনির শেষ হয়ে যায়। ইঁদুর দুটো এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারলেও লিলিপুটেরা ভাবে কেউ তাদের এই পনির চুরি করেছে, তারা চিল্লাতে থাকে যে তাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে এবং পনির ফিরে পাবার আশায় সেখানেই অবস্থান করতে থাকে। স্নিফ ও স্কারি কঠোর পরিশ্রম করে একের পর এক ব্যর্থতা মাথায় নিয়েও শেষ পর্যন্ত চিজ স্টেশন-এম এ নতুন চিজের ভান্ডার খুঁজে পায় যা ছিল আগেরটার চেয়েও বিশাল। তারা আবার সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।
অপরদিকে, হেম ও হো পুরোনো চিজ ফিরে পাবার আশায় নিদারুন ক্ষুধা নিয়ে সেখানেই অবস্থান করতে থাকে। লিলিপুটেরা বিশ্বাসই করতে পারছিল না এটা কিভাবে হলো? হো আস্তে আস্তে সমস্ত ঘটনা বুঝতে পারে এবং হেমকে আবার কাজে নেমে পড়া প্রস্তাব নেয়। কিন্তু হেম কিছুতেই রাজী হয় না। হো এর মাথায়ও নানা ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ কাজ করতে থাকে। এরপর একদিন নিজের অবস্থা দেখে হো হেসে উঠে এবং একাই কাজে বেরিয়ে পড়ে। সে দেয়ালে লেখে,
“নতুন দিকে যাত্রা শুরু করলে সেটা নতুন চিজ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।”
মেইজ ছিল প্রচন্ড অন্ধকার এবং নানা প্রতিকূলতায় ভরা। হো একা ভয় পেতে থাকে। তারপর সে দেয়ালে লেখে,
“যদি তুমি ভয় না পেতে তাহলে কী করতে?”
এটা হো কে প্রচন্ড অনুপ্রেরণা দেয় এবং সে বিপুল বিশ্বাসে পুরো দমে কাজ শুরু করে দেয়। আস্তে আস্তে সে বিভিন্ন জাগায় ছোট-খাটো চিজ পেতে শুরু করে যা তার আত্ম-বিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয় এবং বড় চিজ পাবার আশায় সে তার ভয়কে জয় করে ফেলে। সে হেম এর জন্য দেয়ালে দেয়ালে তার এই বিস্তৃত অভিজ্ঞতাগুলো লেখে রাখতো এবং বিশ্বাস করতো একদিন হেমও বেড়িয়ে আসবে। সে লিখলো,
“যখন তুমি ভয়কে জয় কর, তখন তুমি ভালো অনুভব করতে শুরু করো।”
এরপর আরো বিস্তৃত পথ চলে, হাজারও প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সে চিজ স্টেশন-এম যেয়ে পৌঁছায়। স্নিফ ও স্কারি তাকে স্বাগত জানায় এবং হেম আবার তার আগেরদিন ফিরে পায় ও সুখে দিন কাটাতে শুরু করে। হেম তখনো চিজ স্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকে যেহানে কোনদিনও আর চিজ ফিরে আসবে না। হো তার বন্ধু হেমের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এবং বিশ্বাস করতে থাকে একদিন হেমও তার ভুল বুঝতে পারবে এবং সফলতা অর্জনের জন্য বেরিয়ে আসবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
ব্যক্তিগতভাবে বইটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এটি আমাদের জীবনের অনেকগুলো বদ অভ্যাসের দিকে ইঙ্গিত করেছে এবং সেগুলো কিভাবে পরিবর্তন করা যায় তার উপায় বাতলে দিয়েছে। বইটি সম্পর্কে David A. Heenan বলেছেন,
“প্রত্যেকের কাছেই কোনো একসময় একটি বই আসে, যা তার ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেয়। এই বইটি সেরকম একটি বই। এটি আমার উপর প্রভাব ফেলেছে।”
ভালো দিক:
এটি একটি আত্ম-উন্নয়ন মূলক বই। বইটি আপনাকে দেখাবে,
- পরিবর্তন অনুমান করা
- পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়া
- পরিবর্তন উপভোগ করা
- পরিবর্তনের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা
খারাপ দিক:
বইটির কোন খারাপ দিক পরিলক্ষিত হয়নি। অনুবাদকের ভাষা ছিল সহজ-সরল এবং মার্জিত। সব কিছু মিলিয়ে বইটি ছিল এক কথায় অসাধারণ।
বইটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেতে অবশ্যই বইটিকে পড়তে হবে। যারা ব্যর্থ্যতায় ডুবে আছেন, প্রচন্ড হতাশা আর অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাচ্ছেন, তারা একটি বার অন্তত বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি, সময়টা নষ্ট হবে না।
বইয়ের নাম: হু মুভড মাই চিজ
লেখক: স্পেনসার জনসন
অনুবাদক: আব্দুল্লাহ আল মামুন
ধরণ: অনুবাদ
প্রকাশন: অদম্য প্রকাশ
প্রচ্ছদ: দিনার মিনহাজ
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০