আমাদের এই ছোট পৃথিবী নামক গ্রহেও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন রহস্য। এদের মধ্যে অনেকগুলোর ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি। তন্মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল অন্যতম। এটি শয়তানের ত্রিভুজ নামেও পরিচিত। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল যেখানে বেশকিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়।
এই রহস্য মূলত শুরু হয় ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের যুগে। সেসময় এই বারমুডা অঞ্চল ছিলো বৃটিশ নাবিকদের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাটি। তখন থেকেই সেখানে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হতে শুরু করে বিভিন্ন নাবিক, জাহাজ। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎই উধাও হয়ে যেত। এই রহস্যের কোনো সমাধান হয়নি আজও।
এমনি একটি স্পেনীয় জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়েছিলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে। জাহাজগুলো মেক্সিকো উপসাগর থেকে বের হয়ে ফ্লোরিডার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বাহামা দ্বীপপুন্জ ছাড়িয়ে উত্তর উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ধরে এগুচ্ছিলো। তাদের নৌবহর এই ঋন্জা বিক্ষোব্ধ অঞ্চলের কাছাকাছি চলে আসতেই তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন সামনে যেনো পাকাচ্ছে ঘূর্ণি। আকাশ দিনের বেলাতেই মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি নাবিকদের সতর্ক বাণী করার সাথে সাথেই সাগরের ঢেউ অবিশ্বাস্যভাবে গর্জন করে উঠলো। জাহাজের মাস্তুল সমান উঁচু হয়ে ধেয়ে আসতে লাগল। অনেক চেষ্টা করেও মাস্তুল নামানো গেল না। সবগুলো মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার পরই থেমে গেল ঝড়। এমনভাবে আকাশ মুহূর্তে পরিষ্কার হয়ে গেল যে দেখে বোঝারই উপায় নেই যে কিছুক্ষণ আগেও এখানে প্রলয় ঘটে গেছে।তিনি তিনটি জাহাজের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। না জাহাজের কোনো টুকরা, না কোনো নাবিকের মৃতদেহ কোনোকিছুরই হদিস পাওয়া যায়নি।
এভাবেই হারিয়ে যায় সমুদ্রের অতলে বৃটিশ জাহাজ বেল্লা, জার্মানির জাহাজ ফ্রেয়া, জাপানি জাহাজ রাইফুকুমারু, বৃটিশ বিমান স্টার টাইগার, প্রমোদতরী রেভেনক, ম্যারি কেলেস্ট। ডগলার ভিসি-৩ বিমান ধ্বংস হয়। বিজ্ঞানীদের অনেকে মনে করেন এর জন্য দায়ী হচ্ছে স্থানীয় ভূখন্ডের চুম্বক শক্তি। চুম্বকের এই অস্বাভাবিকতার ব্যাপারটিও একেবারেই বিস্ময়কর কিছু নয়। পৃথিবীর এমন কিছু স্থান ও আছে যেখানে উত্তর মেরুবিন্দু এবং উত্তর চুম্বক মেরুবিন্দু একই লাইনে সাজানো। হয়তো ফ্লোরিডাও তেমনই একটা অঞ্চল।
এটা অনেকটা ব্ল্যাক হোলের মতো যেটা সবকিছুকেই নিজের দিকে টেনে নিয়ে যায়। কেউবা আবার বলেন এখানে বাস করে রূপকথার দানব। এটি কয়েক বছর পর পর ও হয় আবার বছরে কয়েকবার ও ঘটে থাকে। রহস্যঘেরা পৃথিবীর অনেককিছুই মানুষের নাগালের বাইরে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে প্রকৃতির নতুন কোনো বিস্ময়কর রহস্য আবিষ্কৃত হবে।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল শুধুই কি মানুষের অলীক কল্পনা! নাকি এর পেছনেও রয়েছে প্রাকৃতিক কোনো কারণ? এ রহস্যের সমাধান হবে কি কোনোদিন!
বিজ্ঞানচিন্তাধারী মানুষরা এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন।আশা করি সবারই ভালো লাগবে।
বইয়ের নাম: বারমুডা ট্রায়াঙ্গল
লেখক: ভবেশ রায়
ধরণ: রহস্য
প্রকাশন: এশিয়া পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ: সাইফুল ইসলাম
প্রথম প্রকাশ: ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪
মুদ্রিত মূল্য: ১৫০