আমি সম্ভবত সাহিত্যপ্রেমী। সবসময় সাহিত্যপ্রেমীই হতে চেয়েছি। কখনও ক্রিটিক হতে চাইনি। লেখক তার লেখায় কী লিখলেন কেন লিখলেন সেই ব্যবচ্ছেদ করার চেয়ে, তার লেখা আমাকে কী অনুভূতি দিল সেটাই জরুরি আমার কাছে। অনেকে একমত হবেন না, সাহিত্যকে কাটাছেঁড়া করতে ভালো লাগে হয়তো কিন্তু কাটাছেঁড়া করলে সাহিত্যের আত্মা বেরিয়ে যায়। কোনো লেখা যদি ভালো অনুভূতি দেয়, আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন মাত্রা দেয় তাহলে সেটা বঙ্কিমের কাঠখোট্টা হলেও আমার কাছে ভালো বই। আর খুব আরাম লাগল পড়তে কিন্তু ভাবালো না, নতুন কিছু শেখালো না, তাহলে ওই বইয়ের পেছনে সময় নষ্ট করার সময় আমার নাই।
কয়েকটা দিক বলতে চাই:
১. জলের মতো লেখা বলে যে একটা কথা আছে। নাবিদের লেখা সেরকম। খুব আরামে পড়ে যাওয়া যায় কোথাও আটকাতে হয় না।
২. বইটা অনেক মজার মজার উপাদান সমৃদ্ধ একটা ফালুদা। প্রথমে মনে হয় খুব রয়ে সয়ে খাব, কিন্তু খাওয়ার সময় গপাগপ।
৩. সবকিছু দেখার নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গী আছে, আর সেই দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশটাও খুব সহজ। এটা বেশ স্ট্যান্ড আউট করছে তাকে।
৪. বাতিঘরের পেজ আর বাঁধাই নিয়ে প্রায়ই কমপ্লেইন দেখি। আমার তো লালচে পেজটা ভালো লাগে, নীলচে সাদা পেজের চেয়ে। আমি বই খুব যত্ন করে পড়ি, তাই বাঁধাই অতিরিক্ত খারাপ না হলে খারাপ মনে হয় না।
৫. লেখক একজন ভালো অবজারভার, এবং অনেক প্রভাবে প্রভাবিত একজন কথা সাহিত্যিক। তার লেখায় অনেক চেনা লেখকের ঘ্রাণ আছে, কিন্তু স্বাদটা একান্তই তার নিজস্ব।
৬. ওয়াসিফ নূর কি প্রচ্ছদ করার আগে বইটা পড়ে নিয়েছিলেন? নইলে অ্যাবস্ট্রাক্ট একটা বর্ণনাকে আবার অ্যাবস্ট্রাক্টলি মেলালেন কিভাবে?
বইয়ের নাম: কহশিমিয়ান
লেখক: নেওয়াজ নাবিদ
ধরণ: থ্রিলার
প্রকাশন: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
মুদ্রিত মূল্য: ২০০