Home নির্বাচিত রিভিউ অস্বাভাবিক রহস্যে ঘেরা টু হান্ড্রেড ডেইজ!

অস্বাভাবিক রহস্যে ঘেরা টু হান্ড্রেড ডেইজ!

অস্বাভাবিক রহস্যে ঘেরা টু হান্ড্রেড ডেইজ!

ছোটোগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সে শেষ হয়েও শেষ হবে না, মানে স্বল্প শব্দগুচ্ছের প্রভাব থেকে যাবে অনেকটা সময়। আর মানুষ হিসেবে আমাদের সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো রহস্য কম-বেশি আমাদের সবাইকেই সবসময় টানে। সাতটি গল্প দিয়ে সাজানো বইটিও কিন্তু রহস্যে ভরা এক বই যার সবগুলোই আবার অস্বাভাবিক রহস্য।

বইয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করার আগে একটু লেখক সম্পর্কে কিছু বলা যাক। লেখক সম্পর্কে যা জেনেছি তার পুরোটাই ফ্ল্যাপ থেকে। এই যেমন লেখক একজন এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তার, কিন্তু সাহিত্যচর্চাকে ভালোবেসে ক্লিনিক্যাল ডাক্তারি ছেড়ে মনোনিবেশ করেছেন সাহিত্যচর্চায়। নাহ ডাক্তারি পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি, আরো নিবিড়ভাবে জড়িয়েছেন এর সাথে। এ সবই লেখকের বাহ্যিক পরিচয়। লেখকের আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার লেখায়। এবার তবে বইয়ের দিকে তাকানো যাক।

বইয়ে গল্প সংখ্যা সাত। যার মাঝে ব্যক্তিগতভাবে দুটি গল্পে আমি রহস্যের সন্ধান পাইনি। ‘আমগাছ’ ও ‘পুনঃজন্ম’ দুটো গল্পই বেশ আবেগে ভরপুর। দুটি গল্পের মিল হলো এরা আমাদের খুব প্রিয় কিছু সম্পর্কের সামনে দাঁড় করায়, দুই ক্ষেত্রেই চরিত্রদের দারিদ্র্যের সাথে বসবাস। আমগাছ গল্পে মা-ছেলে, ভাই-ভাই এই সম্পর্কগুলোর দীনতা এত চমৎকার করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পের নাম আমগাছ হওয়ার কারণেই হয়তো আমগাছের একটা সংযোগ আছে গল্পে।

পুনঃজন্ম গল্পে রহস্যের সন্ধান না পেলেও এই এই গল্পটার একটা মাহাত্ম্য আছে। পুরো বইয়ে সে এক বিশেষ আসন নিয়ে বসে আছে। গল্পটা শুরু হয়েছে একটা গালি দিয়ে। কিন্তু শেষটুকু এত মর্মস্পর্শী ছিলো! বাবাদের কেন জানি অনেক কিছুই বলা হয় না, কিন্তু অনেক কিছু বলার থাকে! লেখক একটা ছোট্ট দৃশ্যপটের বর্ণনা দিয়ে তার বাবাকে এই বইটি উৎসর্গ করেছেন। আর এই গল্পে বাবা ছেলের সম্পর্ককে অল্প কথায় নিয়ে গেছেন এক অন্য উচ্চতায়।

বাকি পাঁচটি গল্পে রহস্য ছিলো। রহস্যের সাথে ছিলো একটি কমন চরিত্র। চরিত্রের নাম প্রফেসর নাজিব। পেশায় সাইকিয়াট্রিস্ট। রহস্য ভালোবাসেন আর তারচে বেশি ভালোবাসেন যুক্তি দিয়ে তাদের সমাধান করতে। এই ৫টি গল্পে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি রহস্য সমাধানের চেষ্টা করে গেছেন। সমাধান করতে পেরেছেন কিনা সেটা ভবিষ্যৎ পাঠকেরা নির্ধারণ করবেন।

প্রথম গল্পের নাম কন্যা। পিতা আর কন্যার এক অসাধারণ সম্পর্ক কিন্তু রহস্যের ছায়ায় ঘেরা এই সম্পর্ক। বাবারা তাদের মেয়েদের একটু বেশিই ভালোবাসেন কি? একটু বেশিই আগলে রাখতে চান? প্রফেসর নাজিব চেষ্টা করে গেছেন এই সম্পর্কের উপর থেকে রহস্যের আচ্ছাদন সরিয়ে ফেলতে। যুক্তি দিয়ে সাজিয়েছেন রহস্যের সমাধান। রহস্য খোলাসা হয়েছিলো কি না এই ব্যাপারটা আপাতত উহ্য থাকুক।

পরকীয়া গল্প শুরু হয় একটা খুন দিয়ে। খুনটা হয় পরকীয়ার জের ধরে, এই গল্পে পরকীয়ার উপস্থিতিও আছে তবে যাকে খুন করা হয় সে পরকীয়ার সাথে সম্পৃক্ত কি না তা নিয়েই রহস্য।

ব্যাক্টেরিয়া মানব গল্প নিয়ে শুধু একটি কথাই বলবো, প্রকৃতি তার বিরুদ্ধাচারণ পছন্দ করে না, যা কিছু তার সাথে যায় না সে তাদের মিটিয়ে ফেলবেই। গল্পটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং, আমার কাছে একটু ভীতিকর লেগেছে যদিও।

এবার আসা যাক সর্বশেষ আর আমার সব থেকে পছন্দের গল্পে। গল্পের নাম ‘কালো গোলাপ’। কেন্দ্রীয় চরিত্রও সে। কালো গোলাপ কে কেন্দ্র করেই সেই গল্প। বিখ্যাত প্যাথলজিস্ট যত্ন করে লাল গোলাপের গাছ লাগালেন বাসায়। কারণ ছাড়াই মরতে বসেছিলো গাছগুলো। কলিগদের ঠাট্টাচ্ছলে বলা একটা কথা কৌতূহল জাগালো তার, সেভাবেই যত্ন নিতে লাগলেন গাছের। কিন্তু বিধিবাম! লাল না হয়ে তারা হতে লাগলো কালো। ঘটতে শুরু করলো কিছু অপ্রিয় ঘটনা, শুরু হলো রহস্য।

বইয়ের নাম ‘টু হান্ড্রেড ডেইজ’ অথচ এই নামে কোনো গল্প নেই। এই ব্যাপারটাও কিন্তু রহস্যের উদ্রেক করে।

যারা রহস্য গল্প বই পছন্দ করেন তারা বইটি পড়তে পারেন, তাদের কাছে বইটি সুখপাঠ্য হবে বলেই আমার ধারণা।

বইয়ের শুরুতেই ফ্ল্যাপে বলা ছিলো

“টু হান্ড্রেড ডেইজ বইটি হলো অব্যাখ্যেয় রহস্য গল্পের সমাহার। অন্তরালে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক রহস্য, যাদের সমাধান নেই।”

সমাধান আসলেই নেই নাকি লেখক সেই সমাধানের দিকটা ইঙ্গিতে দেখিয়ে দিয়েছেন সেটা জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে বইটি।

বইয়ের নাম: টু হান্ড্রেড ডেইজ
লেখক: রাজীব হোসাইন সরকার
ধরণ: রহস্য গল্প
প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন
প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
প্রথম প্রকাশ: ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ২২০

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here